
আইনের কাগজে-কলমে সাধারণ ডায়েরি বা জিডি একটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যের সেবা। তবে বাস্তবে এর সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানায়। সেখানে জিডি করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ‘অফিস খরচ’ বা ‘প্রসেসিং ফি’ দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
অভিযোগকারীদের দাবি, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জিডি গ্রহণে নানা টালবাহানা করা হয়। আবেদনপত্রে অযথা সংশোধনের চাপ কিংবা দীর্ঘসূত্রতায় ফেলে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। ফলে পুলিশের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
রায়হান নামের এক ভুক্তভোগী জানান, মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় পরিচয়পত্র হারানোর বিষয়ে জিডি করতে তিনি সাতকানিয়া থানায় গিয়েছিলেন। সেখানে তাকে ডিউটি অফিসারের কাছ থেকে ওয়ারলেস অপারেটরের কাছে পাঠানো হয় এবং তার কাছে ‘অফিস খরচ’ দাবি করা হয়।
রায়হানের মতো অনেকেই প্রকাশ্যে এসব নিয়ে অভিযোগ করতে সাহস পান না। কারণ, থানায় অভিযোগ করলে ভবিষ্যতে আরও হয়রানির শিকার হওয়ার প্রবল আশঙ্কা তাদের মধ্যে কাজ করে। ফলে অধিকাংশ মানুষ বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে জিডি করে নীরবে থানা থেকে ফিরে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু হারানো পরিচয়পত্র নয়, বরং মোবাইল ফোন, ব্যাংকের চেকবই হারানো কিংবা পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও নিরাপত্তা শঙ্কা সংক্রান্ত জিডিতেও অনানুষ্ঠানিকভাবে টাকা চাওয়া হচ্ছে। কখনো সরাসরি, আবার কখনো দালালের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে কিছু টাকা দিলে কাজ দ্রুত হয়ে যাবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সুস্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণ ডায়েরি করা একটি বিনামূল্যের নাগরিক সেবা। কোনো পুলিশ সদস্য বা কর্মচারী জিডির জন্য কোনোভাবেই অর্থ দাবি করতে পারেন না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
আইনজীবীদের মতে, জিডির জন্য অর্থ আদায় করা কেবল দুর্নীতিই নয়; এটি একজন নাগরিকের মৌলিক আইনি অধিকার ক্ষুণ্ণ করার শামিল।
জিডিতে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, এই অভিযোগটি তারা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখবেন এবং সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।