
কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় একটি নতুন এলপিজি গ্যাসপাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর ছড়িয়ে পড়া আগুনে অন্তত ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন। আগুনে পাম্পের পাশের একটি গ্যারেজে থাকা অন্তত ৩০টি গাড়ি এবং আশপাশের বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটা এই বিস্ফোরণের পর প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কলাতলীর হোটেল-মোটেল জোনের পূর্ব দিকে সম্প্রতি ‘এন আলম এলপিজি গ্যাসপাম্প’ নামে প্রতিষ্ঠানটি চালু হয়। বুধবার সন্ধ্যায় পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে প্রথমে আগুন ধরে যায়। পাম্পের কর্মচারীরা সে সময় বালু ও পানি ছিটিয়ে তা নেভাতে সক্ষম হন। কিন্তু রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আবারও ভয়াবহভাবে আগুন জ্বলে ওঠে, যা দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের অন্তত নয়টি ইউনিটের যৌথ প্রচেষ্টায় রাত পৌনে ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
তিনি জানান, অগ্নিদগ্ধ ১০ জনকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের মধ্যে নয়জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।
গ্যাসপাম্প সংলগ্ন একটি গ্যারেজের কর্মচারী নুরুল আলম জানান, পাম্প থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর গ্যারেজে মেরামতের জন্য রাখা অন্তত ৩০টির বেশি প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস একে একে পুড়ে যায়। আগুন আশপাশের ঘরবাড়িতেও ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ দূরত্বে সরে যান।
কক্সবাজার হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, সন্ধ্যায় প্রথমবার আগুন নেভানোর পর ট্যাংকে জমে থাকা গ্যাস ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই ট্যাংকেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। নাশকতার উদ্দেশ্যে কেউ পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।