সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

বইমেলাকে ‘আন্তর্জাতিক’ রূপ দেওয়ার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৫:৩৪ অপরাহ্ন


দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত জবাবদিহিমূলক এই সরকার দেশটাকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায়।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অন্যান্য দেশের বইমেলার সঙ্গে অমর একুশে বইমেলার পার্থক্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, আমাদের এই মেলা মাতৃভাষার অধিকার আদায় এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্মারক। তবে মেলার আয়তন বাড়লেও গবেষণাধর্মী বই প্রকাশ ও মানুষের বই পড়ার অভ্যাস আনুপাতিক হারে বাড়ছে কি না, তা নিয়ে ভাবনার অবকাশ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বই পড়ার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে জার্মান দার্শনিক মারকুইস সিসেরো-এর উদ্ধৃতি টেনে তারেক রহমান বলেন, বই ছাড়া ঘর আত্মা ছাড়া দেহের মতো। বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মতে, বই পড়া মস্তিষ্কের জন্য এক ধরনের ব্যায়াম, যা স্মৃতিশক্তি ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা বাড়ায় এবং আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি কমায়।

ইন্টারনেটের অতিরিক্ত আসক্তি তরুণ প্রজন্মকে বইবিমুখ করছে বলে সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মনিটরে ডুবে থেকে জ্ঞানার্জন সম্ভব হলেও শরীর ও মনোজগতে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সূত্র ধরে তিনি জানান, ইন্টারনেট আসক্তি পড়াশোনার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ হারানোর তীব্র ঝুঁকি তৈরি করে। তাই তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট করার ওপর তিনি জোর দেন।

অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সিইও ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিনের এক জরিপের তথ্য তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, ১০২টি দেশের মধ্যে বই পড়ার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা শীর্ষে এবং আফগানিস্তান তলানিতে রয়েছে। এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম, যেখানে একজন মানুষ বছরে গড়ে মাত্র তিনটি বই পড়েন এবং এর পেছনে ৬২ ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন।

৫২-এর ভাষা শহীদদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করা বাংলা একাডেমির বইমেলাকে আগামী বছরগুলোতে ‘অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা’ হিসেবে আয়োজনের সুযোগ রয়েছে কি না, তা বিবেচনার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক মেলা অনুষ্ঠিত হলে বিশ্ব সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি বহু ভাষা ও সংস্কৃতি শেখার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রধানমন্ত্রী মেলাকে শুধু একটি নির্দিষ্ট মাসে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর দেশের সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় আয়োজনের প্রস্তাব দেন। এ বিষয়ে প্রকাশকদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজের যুগে মাতৃভাষার পাশাপাশি একাধিক ভাষার সঙ্গে পরিচিত হওয়াকে অত্যন্ত জরুরি বলে আখ্যায়িত করেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।