
চট্টগ্রামের হালিশহরে একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ইতোমধ্যে পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটেছে। দগ্ধ হয়ে হাসপাতালের বিছানায় এখনও মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন কয়েকজন।
কিন্তু এত বড় একটি মর্মান্তিক ঘটনার নেপথ্যের কারণ কী, তা নিয়ে এখনও অন্ধকারে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে পরস্পরবিরোধী তথ্য।
গত সোমবার ভোরে নগরীর হালিশহরের একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে এই আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে। নারী ও শিশুসহ মোট নয়জন দগ্ধ হন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন পাঁচজন। সংকটাপন্ন বাকিরা ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বিস্ফোরণের কারণ খুঁজতে মাঠে নেমেছে বিভিন্ন সংস্থা। কিন্তু প্রাথমিক তদন্তের পর কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল), ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশের মধ্যে ব্যাপক মতভিন্নতা দেখা দিয়েছে।
কেজিডিসিএলের গঠিত তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে তাদের কাজ শুরু করেছে। তারা দাবি করছে, তাদের সরবরাহকৃত গ্যাস লাইন থেকে এই বিস্ফোরণ ঘটেনি। এখন পর্যন্ত লাইনে কোনো ত্রুটি বা লিক পাওয়া যায়নি।
তদন্ত কমিটির এক সদস্য জানান, রাইজারে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি, তবে চুলা পর্যন্ত লাইন পরীক্ষা করা হবে। তার মতে, পুরো ভবন যেভাবে কেঁপে উঠেছে, তা কেবল গ্যাস লিকেজ থেকে হওয়ার কথা নয়।
তিনি জানান, ওই বাসার ভাড়াটিয়া শাখাওয়াত হোসেন পেশায় মোটর পার্টস ব্যবসায়ী ছিলেন। বাসায় কোনো রাসায়নিক দ্রব্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে কমিটি।
কেজিডিসিএলের ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেস ডিভিশনের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিক খান জানান, গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ হয়েছে কি না সেটিই তারা প্রধানত খতিয়ে দেখছেন। আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার আশা করছেন তিনি।
অন্যদিকে পুলিশের মত সম্পূর্ণ ভিন্ন। হালিশহর থানার ওসি কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান উদ্দীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানিয়েছেন, সেখানে বিস্ফোরক দ্রব্যের কোনো আলামত তারা পাননি। তার মতে, জমে থাকা গ্যাস থেকেই এই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।
ফায়ার সার্ভিসও প্রাথমিকভাবে গ্যাস জমে থাকার সন্দেহ করছে। ফায়ার সার্ভিসের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটির সদস্য ও উপ-সহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটি অনুমোদনের কাগজ তারা হাতে পেয়েছেন। শিগগিরই তারা কাজ শুরু করবেন।
আলমগীর হোসেনও প্রাথমিকভাবে জমে থাকা গ্যাসকেই এই মর্মান্তিক পরিণতির জন্য সন্দেহ করছেন। তবে ফায়ার সার্ভিসের চূড়ান্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।