সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

পাহাড়ে শান্তি চুক্তি বাতিল ও সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপনের দাবি

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৩:০০ অপরাহ্ন


পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাতিল এবং আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদগুলোতে বাঙালিদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাসহ ৭ দফা দাবিতে বান্দরবানে সংবাদ সম্মেলন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ।

শনিবার বেলা ১১টায় বান্দরবান সদরের একটি রেস্তোরাঁর মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান বলেন, দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে আঞ্চলিক পরিষদ এবং ৩৭ বছর ধরে জেলা পরিষদগুলো অনির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। জবাবদিহি না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বেড়েছে।

কাজী মো. মজিবর রহমান অভিযোগ করেন, পরিষদগুলোতে চেয়ারম্যান পদটি উপজাতীয়দের জন্য সংরক্ষিত রাখা অসাংবিধানিক। এর মাধ্যমে ৫৪ শতাংশ বাঙালি জনগোষ্ঠীকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে কাজী মো. মজিবর রহমান ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন। উল্লেখযোগ্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি ও ১৯০০ সালের শাসনবিধি বাতিল করা, আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদগুলোতে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচিত করা, বাঙালিদের মধ্য থেকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের সুযোগ প্রদান ও ‘ভাইস চেয়ারম্যান’ পদ সৃষ্টি করা, পার্বত্য এলাকা থেকে প্রত্যাহার করা ২৪৬টি সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন করা, নিরাপত্তার স্বার্থে ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক দ্রুত নির্মাণ সম্পন্ন করা এবং পুলিশের পরিবর্তে সেনাক্যাম্পগুলোতে পুনরায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা।

সংবাদ সম্মেলনে কাজী মো. মজিবর রহমানসহ উপস্থিত বক্তারা পার্বত্য অঞ্চলে জেএসএস, ইউপিডিএফ ও কেএনএফসহ একাধিক সশস্ত্র গ্রুপের চাঁদাবাজি, গুম ও খুনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তাঁরা জানান, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরাও প্রতিনিয়ত এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার শিকার হচ্ছেন। জুমের ফসল থেকে শুরু করে ঠিকাদারি—সব ক্ষেত্রেই চাঁদা না দিলে নিস্তার মিলছে না। এই নৈরাজ্য থেকে মুক্তি পেতে তাঁরা রাষ্ট্রের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।