সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

চাঁদা না পেয়ে চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীর বাসায় গুলি, সিসিটিভিতে চারজন

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৯:১৭ অপরাহ্ন


কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে চট্টগ্রামের এক শীর্ষ ব্যবসায়ীর বাসা লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে নগরীর চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে এ গুলির ঘটনা ঘটে। পুলিশের ধারণা, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর লোকজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

এর আগে গত ২ জানুয়ারি মোস্তাফিজুর রহমানের একই বাসায় কয়েকজনের ছোড়া গুলিতে জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং দরজায় গুলি লাগে। এরপর থেকে বাসাটি পুলিশের পাহারায় ছিল। কিন্তু পুলিশের পাহারার মধ্যেই দেড় মাসের মাথায় আবারও গুলির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবারের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চার মুখোশধারী আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মোস্তাফিজুর রহমানের বাসার কাছে আসেন। কিছুক্ষণ পর বাসাটি লক্ষ্য করে অস্ত্র উঁচিয়ে একের পর এক গুলি ছুড়তে থাকেন তারা। এ সময় একজনের হাতে দুটি পিস্তল, বাকিদের হাতে চাইনিজ রাইফেল, মেশিনগান ও শটগান দেখা গেছে।

নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন কবির ভূঁইয়া জানান, একটি প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে করে সন্ত্রাসীরা মোস্তাফিজুর রহমানের বাসার সামনে আসেন। গাড়ি কিছুটা দূরে রেখে পায়ে হেঁটে তারা বাসার কাছে গিয়েই গুলি করতে থাকেন এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

উপকমিশনার হোসাইন কবির ভূঁইয়া আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ চাঁদার জন্যই তাঁর লোকজন দিয়ে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। আগের কয়েকটি ঘটনায়ও সাজ্জাদ আলীর লোকজনের জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছিল পুলিশ। এবারের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। প্রাথমিকভাবে সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর সহযোগী মো. রায়হান ও বোরহান এবারের ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ফোন করে প্রথমে ১০ কোটি এবং পরে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তাঁরা আবারও তাঁর বাসায় গুলি ছুড়েছেন। এর আগে ২ জানুয়ারিও চাঁদার দাবিতে তাঁর বাসায় গুলি করা হয়েছিল। এরপরও চাঁদা না পেয়ে ২০ দিন আগে মোস্তাফিজুর রহমানের হোয়াটসঅ্যাপে ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ লিখে একটি বার্তা পাঠান সাজ্জাদ আলী।

মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, শনিবার ভোরে সাহরি খেয়ে নামাজ পড়ে সবাই যখন ঘুমাতে যাচ্ছিলেন, তখন সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বাসার পেছনে কয়েকজন মুখোশধারীকে অস্ত্র হাতে দেখেন। তারা কয়েক মিনিটে ৬ থেকে ৭ রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। বাসায় থাকা পুলিশ সদস্যরা ভবনের দোতলায় উঠে সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে গুলি করতে যাওয়ার আগেই তারা পালিয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, স্মার্ট গ্রুপ একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের ছোট ভাই মুজিবুর রহমান ২০২৪ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৬ (বাঁশখালী) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।