সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

হাটহাজারীতে জাল দলিলে নামজারি: সাবেক এসি ল্যান্ডসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৩ মার্চ ২০২৬ | ১০:৩৬ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে জাল দলিল তৈরি করে পৈতৃক ও কেনা সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে সাবেক সহকারী কমিশনারসহ (ভূমি—এসি ল্যান্ড) ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) চট্টগ্রাম জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক সাখাওয়াত হোসেনের আদালতে এই মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী গিয়াস উদ্দীন খাঁন।

আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান বাদীপক্ষের আইনজীবী আসাদুজ্জামান খান।

মামলার আসামিরা হলেন জাল দলিলের কথিত ক্রেতা নওশাদুল ইসলাম খাঁন (৫০), মোছাম্মৎ সৈয়দা নুসরাত জাহান চৌধুরী (৪০), জেরিন ইসলাম খানম (২৬), তাসনিম ইসলাম খানম (৩৩), আকিবুল ইসলাম খান (২৩), রিয়াজুল ইসলাম খান (২২), মহিউদ্দীন শাহ, মুজাফফর আহাম্মদ খাঁন, তাপস দেওয়ানী, মোহাম্মদ শের আলী শাহ, দিদারুল ইসলাম খাঁন ও দলিল মুসাবিদাকারক দিলীপ চৌধুরী।

এ ছাড়া হাটহাজারী উপজেলার সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) শরীফ উল্যাহ, ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা জুলকার নাঈম, ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কাজী আশরাফ উদ্দীন এবং উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো এম. এ. সাত্তার খানকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশ করে ফতেয়াবাদ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১৯৯৯ সালের ১০ অক্টোবর একটি ‘নির্দ্দায় ছাফ বিক্রয় কবলা পত্র’ (দলিল নং-১১১৫/৯৯) সৃজন করেন। ওই দলিলে গিয়াস উদ্দীন খাঁনের মৃত চাচা ফোরক আহাম্মদ খান ও বাবা ফরিদ আহম্মদ খানকে জীবিত দেখিয়ে ভুয়া স্বাক্ষর ও টিপসই ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। অথচ ফোরক আহাম্মদ খান ১৯৯২ সালে এবং ফরিদ আহম্মদ খান ১৯৮৭ সালে মারা গেছেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা ওই ভুয়া দলিলটি ব্যবহার করে হাটহাজারী উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারির আবেদন করেন। অভিযোগ মতে, ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা দলিলের সঠিকতা যাচাই না করে এবং অভিযোগকারীকে কোনো নোটিশ না দিয়েই ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট নামজারি খতিয়ান (বি.এস ৫৪০১) তৈরি করে দেন।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে গিয়াস উদ্দীন খাঁন আসামিদের বসতঘরে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে, তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে অবশেষে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আসাদুজ্জামান খান মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আসামিদের বিরুদ্ধে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি আইনের ৪২০, ৪৬৫, ৪৬৬, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৫০৬ (২), ১০৯ এবং ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।