সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

মধ্যপ্রাচ্য কি তবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে?

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৪ মার্চ ২০২৬ | ১২:০৩ অপরাহ্ন


ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলা চলছে। এর জবাবে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে তেহরানও। সংঘাতের জেরে নিজেদের ক্ষতি কমিয়ে আনতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। ইতিমধ্যে সৌদি আরব ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

গত চার দিন ধরে ইরানে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মঙ্গলবার পর্যন্ত ইরানে এই হামলায় ৭৮৭ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের পাল্টা হামলায় নিহত হয়েছেন প্রায় ৩০ জন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামলা আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং তিনি স্থল অভিযানেরও আভাস দিয়েছেন। ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় না যাওয়ার কথাও স্পষ্ট করেছেন তিনি। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, আগ্রাসন চলতে থাকলে তারাও পাল্টা আঘাত অব্যাহত রাখবে।

১৫ দেশের ভূখণ্ডে ইরানের হামলা

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জবাব দেওয়া শুরু করে ইরান। মূলত উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হচ্ছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ১৫টি দেশের ভূখণ্ড বা স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, জর্ডান, ইরাক, বাহরাইন, ওমান, সিরিয়া, সাইপ্রাস, ফ্রান্স, ইতালি ও যুক্তরাজ্য।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হামলা হয়েছে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে। মঙ্গলবার ভোরে দুটি ড্রোন হামলার পর সেখানে সীমিত মাত্রায় আগুন লাগে এবং পরে দূতাবাসের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া বাহরাইনে মার্কিন বিমানঘাঁটি এবং ওমানের দুকুম বাণিজ্যিক বন্দরেও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। কুয়েত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতেও হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের হামলায় ৩ জন নিহত ও ৬৮ জন আহত হয়েছেন বলে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এসব হামলায় অন্তত ছয় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে জানান, তারা প্রতিবেশীদের ওপর নয়, বরং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ করছেন।

এছাড়া হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে আইআরজিসি সতর্ক করেছে, এই প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করলে সেটি হামলার শিকার হবে। মঙ্গলবার একটি তেলের ট্যাংকারে হামলার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে শুরু করেছে এবং নিরাপত্তা শঙ্কায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তেল উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। এর বাইরে লেবাননেও ইসরায়েলি হামলায় গত দুই দিনে অন্তত ৫২ জন নিহত হয়েছেন।

ইরানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ

ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখন পর্যন্ত ১৫৩টি শহরের ৫০৪টি স্থানে ১ হাজার ৩৯টি হামলা চালিয়েছে। সোমবার রাতে ও মঙ্গলবার দিনে রাজধানী তেহরানসহ কারাজ ও কোম শহরে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করা হয়। তেহরানের কেন্দ্রস্থলে এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের ভবন এবং রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি কমপ্লেক্সে হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ভবনে বিমান হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা ইরানে আইআরজিসির নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ধ্বংস করে দিয়েছে। ইরানের সংসদ সদস্য ফাতেমেহ মোহাম্মদ বেইগির দেওয়া তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় অন্তত নয়টি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যের ১৪টি দেশ এবং ফিলিস্তিন থেকে মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাহরাইন, মিসর, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন। তবে টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য থেকে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় এবং বেশ কয়েকটি এয়ারলাইনস পরিষেবা স্থগিত করায় নাগরিকদের ফিরে আসা কঠিন হয়ে পড়েছে।