
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার উত্তর হারবাং ইছাছড়ি এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন পয়েন্টে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে এই অভিযান চালানো হয়।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি ওই এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের ছবি তুলতে গিয়ে তিন সাংবাদিক হামলার শিকার হন। এই ঘটনার জেরে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন এই পদক্ষেপ নেয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার। তাঁর সাথে ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ন দেব, থানা পুলিশের একটি দল এবং ইউনিয়ন ভূমি তহসিলদার।
ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবৈধ বালু উত্তোলনের বিভিন্ন আলামত পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় ছড়াখালের তীরে কালো পলিথিনে ঢেকে ও মাটি চাপা দিয়ে লুকিয়ে রাখা একটি শ্যালো মেশিন জব্দ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি চক্র শ্যালো মেশিন বসিয়ে ছড়াখালের তীরের সরকারি খাসজমি ও কৃষিজমি কেটে অবাধে বালু তুলে আসছে। উত্তর হারবাং ইছাছড়ি এলাকার নাজিম উদ্দিন এই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন। তবে অভিযানের খবর আগেভাগে জানতে পেরে বালুদস্যুরা অধিকাংশ সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলে বলে দাবি স্থানীয়দের।
নির্বিচারে বালু উত্তোলনের কারণে ইছাছড়ি খালের তলদেশ গভীর হয়ে ভাঙন তীব্র হয়েছে। এতে ওই এলাকার কৃষিজমি ও বসতভিটা হুমকির মুখে পড়েছে। পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, অনিয়ন্ত্রিত শ্যালো মেশিন ব্যবহারে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের ঝুঁকি বাড়ছে।
ইউএনও শাহীন দেলোয়ার জানান, পরিদর্শনে উত্তর হারবাং ইছাছড়ি এলাকার ছড়াখালের তীরে কৃষিজমি কেটে বালু লুটের সত্যতা পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট বালুমহাল ইজারাদার চুক্তি লঙ্ঘন করে ভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করেছেন। তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জব্দ করা সরঞ্জামের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
চকরিয়া উপজেলা পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সাংবাদিক মাহামুদুর রহমান মাহমুদ বলেন, প্রশাসনের অভিযানে শুধু শ্যালো মেশিন জব্দেই বালুদস্যুদের দৌরাত্ম্য থামবে কি না, নাকি সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীরা প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় কৌশলে রক্ষা পেয়ে যাবে, তা এখন দেখার বিষয়।