
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে আবদুল জব্বার (৫৩) নামের এক কাঠুরিয়ার বাঁ পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী শূন্যরেখার কাছে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
আহত আবদুল জব্বার উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের পাইনছড়া এলাকার বাসিন্দা। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে দোছড়ি ইউনিয়নের পাইনছড়া গ্রাম। শুক্রবার আবদুল জব্বারসহ ওই এলাকার সাত-আটজন কাঠুরিয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় কাঠ কাটতে গিয়েছিলেন। এ সময় শূন্যরেখার কাছে একটি স্থলমাইন বিস্ফোরণে আবদুল জব্বার গুরুতর আহত হন। বিস্ফোরণে তাঁর বাঁ পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি হয়।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বাতেন মৃধা মাইন বিস্ফোরণে আবদুল জব্বার আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর আহত আবদুল জব্বারকে দ্রুত কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে অন্তত ৬৩ জন মাইন বিস্ফোরণে হতাহত হয়েছেন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের এবং পা হারিয়েছেন ৪৮ জন। বাকিদেরও বিভিন্ন অঙ্গহানি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে। এর মধ্যে ২০২৪ সালে ১০ জন এবং গত বছর ১৮ জন হতাহত হয়েছেন।