
দাঁড়িপাল্লার বিজয় যারা মেনে নিতে পারছেন না, তাঁদের ‘তার ছিঁড়ে গেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের সংসদ সদস্য জহিরুল ইসলাম।
শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে বাঁশখালীর ছনুয়া কাদেরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ছনুয়া ইউনিয়ন শাখা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জহিরুল ইসলামের সম্মানে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েক হাজার নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো মাঠ জনসমুদ্রে রূপ নেয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম স্থানীয় বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ করে বলেন, যারা বদনাম করছেন, তাদের জন্য দোয়া করবেন, কারণ ইফতারের আগে দোয়া কবুল হয়। দাঁড়িপাল্লার বিজয় যারা এখনো মেনে নিতে পারছেন না, তাঁদের তার ছিঁড়ে গেছে। যারা চোখে টিনের চশমা দিয়ে দুনিয়া দেখছেন, তাঁদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দুনিয়া লাল নয়, সাদা। সবাইকে ভদ্র হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, পারিবারিক ভদ্রতা না থাকলে কারও কাছ থেকে ধার নিয়ে হলেও ভালো হয়ে যাওয়া উচিত, কারণ অভদ্র মানুষের কোনো মূল্য নেই।
ছনুয়াবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জহিরুল ইসলাম বলেন, ছনুয়াবাসীর ঋণ তিনি কখনো শোধ করতে পারবেন না। তারা তাঁর আব্বাজান, আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এবং আল্লামা সাঈদীর পরিবারকে সম্মানিত করেছেন। তিনি জানান, কারা ভোট দিয়েছেন আর কারা দেননি, সেই হিসাব নেওয়ার সময় এখন নেই; বরং প্রতিহিংসা বাদ দিয়ে সব দলের ও মতের মানুষের পক্ষ হয়ে উন্নয়নকাজ করতে হবে। ছনুয়ার বেড়িবাঁধ ও লিংক রোডসহ সব ক্ষেত্রে স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্নীতিমুক্ত কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের রূপরেখা তুলে ধরে জহিরুল ইসলাম জানান, জলকদর খাল খনন ও পশ্চিম বাঁশখালীর মাওলানা আশরাফ আলী সড়কের উন্নয়নকাজ শিগগিরই শুরু হবে। বাঁশখালী প্রধান সড়কের ফাইল মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং একনেকে পাস হলেই কাজ দৃশ্যমান হবে। ইতোমধ্যে ছনুয়া জেটিঘাটের পাশে প্রায় ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি বাথরুম ও একটি টিউবওয়েল এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার চার শতাধিক পরিবারের সুফল ভোগের জন্য তিন কোটি টাকা বরাদ্দের একটি গভীর নলকূপ দেওয়ার কথা জানান তিনি। এ ছাড়াও প্রধান সড়কের দরপত্র সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাস্টার আবদুর রশিদ ছানুবীর সভাপতিত্বে ও ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আবদুল্লাহ আল মামুন ফয়সালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসমাঈল, নায়েবে আমির আবদুর রহিম ছানুবী, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আরিফ উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম সাইফুল ইসলাম, ছনুয়া উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি লায়ন মো. আমিরুল হক (এমরুল কায়েস) ও উপজেলা পেশাজীবী বিভাগের সেক্রেটারি ইমরানুল হক রাশেদ।
এ ছাড়াও এই সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিলে অংশ নেন ইউনিয়ন খেলাফতে মজলিসের সভাপতি মাওলানা হুবাইবুল ইসলাম, ইউনিয়ন জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা মীর মো. আদম, ইউনিয়ন নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি মাওলানা কলিম উল্লাহ, ইউনিয়ন যুব বিভাগের সভাপতি এম এ হাসান, ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ হোছাইন, উপজেলা যুব বিভাগের সেক্রেটারি জসিম উদ্দীন এবং মাওলানা আবুল হোসেন নোমানী।