
চট্টগ্রাম নগরে পুলিশের অভিযানের সময় গ্রেপ্তার এড়াতে ইয়াবা গিলে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর আগের যন্ত্রণাকাতর মুহূর্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।
নিহত যুবকের নাম দিদারুল আলম। তিনি পাহাড়তলী থানা যুবলীগের একজন কর্মী ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় নগরের খুলশী থানার আমবাগান আনসার ক্লাব এলাকায় পুলিশের অভিযানের সময় এই ঘটনা ঘটে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এম মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তির পোস্ট করা ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গায়ে জামাহীন অবস্থায় দিদারুল আলম মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছেন এবং যন্ত্রণায় চরম ছটফট করছেন। অসংলগ্ন কথাবার্তার একপর্যায়ে বুকফাটা আর্তনাদ করে তাঁকে বলতে শোনা যায়, মোবাইল দেন, টাকা দেন, আমার দুইটা বাচ্চা আছে স্যার।
নগর পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম নগর পুলিশের ‘এস ড্রাইভ’ নামের একটি বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবেই বৃহস্পতিবার রাতে মাদক ও হত্যা মামলার আসামি দিদারুল আলমকে ধরতে যায় পুলিশ। পুলিশের দাবি, অভিযানের উপস্থিতি টের পেয়ে দিদারুল আলম তাঁর কাছে থাকা একাধিক ইয়াবা বড়ি চিবিয়ে খেয়ে ফেলেন।
পুলিশ যখন তাঁকে খুঁজে পায়, তখন তিনি মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছিলেন। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। শনিবার রাতে দিদারুল আলমের ওই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হয়।
এ বিষয়ে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে অতিরিক্ত ইয়াবা চিবিয়ে খাওয়ার কারণেই দিদারুল আলমের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় খুলশী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জানান, নিহত দিদারুল আলমের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত ইয়াবা খাওয়ার বিষয়টিই উঠে এসেছে। জাহিদুল ইসলাম আরও জানান, নিহত দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে আগে থেকেই খুন ও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে।