
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নিয়মিত মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক।
রোববার (৮ মার্চ) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম। প্রাথমিক অনুসন্ধানে সাবেক এই হুইপের নিজের নামে ৫ কোটি টাকার বেশি এবং তাঁর স্ত্রী ও কন্যার নামে আরও প্রায় ১০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতিবেদনে সাবেক হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর নামে মোট ৬ কোটি ৮৮ লাখ ৭ হাজার ৯৫৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ পাওয়া গেছে। এর বিপরীতে তাঁর গ্রহণযোগ্য ও বৈধ আয় পাওয়া গেছে ৪ কোটি ৯০ লাখ ১৩ হাজার ৯৫৬ টাকা। পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় বাদ দিয়ে তাঁর প্রকৃত সঞ্চয় হওয়ার কথা ছিল ১ কোটি ৭৯ লাখ ৪৯ হাজার ৩৬২ টাকা। অর্থাৎ, তাঁর আয়ের চেয়ে ৫ কোটি ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৫৯৫ টাকার বেশি সম্পদ পাওয়া গেছে, যার কোনো বৈধ উৎস মেলেনি। সামশুল হক চৌধুরী সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসৎ উদ্দেশ্যে এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রেখেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শুধু নিজের নামেই নয়, স্ত্রী ও কন্যার নামেও অঢেল অবৈধ সম্পদের হদিস মিলেছে। দুদকের অনুসন্ধানে সামশুল হক চৌধুরীর স্ত্রী কামরুন নাহার চৌধুরীর নামে ৭ কোটি ২১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৬ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে। অথচ তাঁর বৈধ আয় ও সঞ্চয় অনুযায়ী সম্পদের পরিমাণ হওয়ার কথা ছিল মাত্র ৪৫ লাখ ৭৮ হাজার ৫৮৩ টাকা। ফলে তাঁর নামে ৬ কোটি ৭৫ লাখ ৭৬ হাজার ২০৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য মিলেছে।
অন্যদিকে সামশুল হক চৌধুরীর কন্যা তাকলিমা নাছরিন চৌধুরীর নামে ৩ কোটি ১ লাখ ৮১ হাজার ৯৬৯ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে। যেখানে অসংগতিপূর্ণ বা অবৈধ সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮৮ হাজার ৭২৩ টাকা বলে দুদকের কাছে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে।