
চট্টগ্রামের মিরসরাই পৌরসভার পশ্চিম মিরসরাই বা বটতলা এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে চুরি যাওয়া দুটি অটোরিকশা একই দিন সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার ভোররাতে অর্থাৎ সেহরির সময় গ্যারেজের তালা ভেঙে গাড়ি দুটি চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে সন্ধ্যায় ভাটিয়ারী এলাকার এক দোকানদারের বুদ্ধিমত্তায় গাড়ি দুটি প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়। তবে এ ঘটনায় হাতেনাতে ধরা পড়া চোরকে স্থানীয়রা মারধর করে ছেড়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে।
গ্যারেজ মালিক শহিদুল ইসলাম জানান, সেহরির সময় দোকানে এসে তিনি দেখতে পান বাইরের তালা ভাঙা এবং শাটার খোলা। ভেতরে তাকিয়ে দেখেন তার দুটি অটোরিকশা নেই। এরপর সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করেও চোরের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেননি তিনি। গাড়ি পাওয়ার আশা যখন প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন, ঠিক তখনই তার কাছে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোন ধরতেই অপর প্রান্তের ব্যক্তি জানতে চান, তার কাছে বিক্রি করতে আনা গাড়ি দুটি শহিদুল ইসলামের কি না।
শহিদুল ইসলাম আরও জানান, গাড়ি দুটি রাতে চুরি হয়েছে জানানোর পর ওই ব্যক্তি চোরকে আটকে রাখার কথা বলেন এবং তাকে দ্রুত সেখানে যেতে বলেন। খবর পেয়ে তিনি ভাটিয়ারীতে গিয়ে নিজের গাড়ি দুটি পেলেও জানতে পারেন যে, চোরকে মারধর করে এরই মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ছেড়ে দেওয়ার আগে ওই চোর স্বীকার করে যে, স্থানীয় এমরান নামের এক ব্যক্তি তাকে এই চুরির কাজে সহায়তা করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভাটিয়ারীর ওই দোকানদার জানান, তার দোকানে অটোরিকশা দুটি বিক্রি করতে এলে বিক্রেতার আচরণ তার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। তখন তিনি গাড়ির বডিতে লেখা একটি মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে প্রকৃত মালিক শহিদুল ইসলামের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। তখনই তিনি নিশ্চিত হন যে, গাড়ি দুটি মিরসরাই থেকে চুরি করে আনা হয়েছে। এরপর সন্ধ্যায় মূল মালিকের হাতে গাড়ি দুটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন, তবে এ ব্যাপারে কেউ থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেখে তিনি নিজ উদ্যোগে ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছিলেন। চুরির এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।