সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

জ্বালানি সংকটে চট্টগ্রামে আটকে আছে পণ্যবাহী লাইটার জাহাজ

২৫ শতাংশ সরবরাহ কমাল পদ্মা অয়েল
একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১০ মার্চ ২০২৬ | ২:৪৩ অপরাহ্ন


ডিজেল সরবরাহে হঠাৎ ঘাটতি দেখা দেওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নদীপথে আমদানি পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত লাইটার জাহাজ এবং রপ্তানি পণ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক লাইটার জাহাজ পণ্য নিয়ে মাঝ নদীতে ভাসছে এবং ডিপোগুলো তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের দাবিতে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানো বড় জাহাজ থেকে ভোগ্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামালসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য স্থানান্তর করে প্রথমে লাইটার জাহাজে নেওয়া হয়। এরপর সেগুলো নদীপথে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন ঘাটে নিয়ে খালাস করা হয়। বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ কাজে দেশে ১ হাজার ৫০টি লাইটার জাহাজ নিয়োজিত রয়েছে। কিন্তু ডিজেল সংকট তীব্র হওয়ায় নদীপথে এই পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা এখন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি তুলে ধরে বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের (বিডব্লিউটিসিসি) আহ্বায়ক সফিক আহমেদ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পণ্য বোঝাই অনেক লাইটার জাহাজ কর্ণফুলী নদীতে ভাসছে এবং গন্তব্যে যেতে পারছে না। বন্দর থেকে নদীপথে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চিঠিতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন সফিক আহমেদ।

জ্বালানি সংকটের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিডব্লিউটিসিসির মুখপাত্র পারভেজ আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে লাইটার জাহাজে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে এই সংকট শুরু হয়েছে। তিনি জানান, প্রতিদিন পণ্য পরিবহনের জন্য গড়ে ৭০ থেকে ৮০টির মতো জাহাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাওয়ার জন্য একেকটি জাহাজের প্রায় তিন হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। তবে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ না পাওয়ায় অনেক জাহাজই এখন গন্তব্যে যেতে পারছে না বলে পারভেজ আহমেদ উল্লেখ করেন।

লাইটার জাহাজের মতো একই ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে চট্টগ্রামের বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলোতেও। চট্টগ্রামের ২১টি ডিপোর মাধ্যমে মূলত রপ্তানি পণ্য ব্যবস্থাপনা করা হয়, যা পরবর্তীতে কনটেইনারে ভরে বন্দর দিয়ে জাহাজে তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি কনটেইনারে করে আমদানি পণ্য বন্দর থেকে এনে এসব ডিপো থেকেই খালাস করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব কাজের জন্য প্রায় এক হাজার কনটেইনার পরিবহনকারী গাড়ি এবং ২৫০টি ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়, যেগুলোর জন্য প্রচুর পরিমাণে ডিজেল দরকার। গত রোববার পাঁচটি ডিপো চাহিদামতো ডিজেল চেয়েও পায়নি।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খলিলুর রহমান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন। ওই চিঠিতে খলিলুর রহমান জানান, ডিপোগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রতিদিন ৬০ থেকে ৬৫ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন। কিন্তু সম্প্রতি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল লিমিটেড নামের তিনটি কোম্পানি ডিপোগুলোকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, যার ফলে ডিপোগুলো চরম জ্বালানি সংকটে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সার্বিক এই পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান জানান, তেল সরবরাহ এখনো চলমান রয়েছে। তবে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ২৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার কারণে বর্তমানে কিছুটা কম পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

মো. মফিজুর রহমান আরও জানান, তেল সরবরাহ একেবারেই বন্ধ করা হয়নি। এরই মধ্যে ডিজেল নিয়ে একটি জাহাজ দেশে এসে পৌঁছেছে এবং চলতি সপ্তাহের মধ্যেই আরও কয়েকটি জাহাজ দেশে আসার কথা রয়েছে। ফলে খুব শিগগিরই তেল সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।