সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

বান্দরবান জেলা পরিষদের নেতৃত্বে আসছেন মাম্যাচিং?

রিজভী রাহাত | প্রকাশিতঃ ১১ মার্চ ২০২৬ | ১:০৬ অপরাহ্ন


বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ নতুন করে গঠিত হতে যাচ্ছে। এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় কারা চেয়ারম্যান পদে আসীন হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিভিন্ন মাধ্যমে বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এলেও বান্দরবানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন সাবেক সাংসদ, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং সাবেক জেলা বিএনপির সভাপতি মাম্যাচিং। রাজপরিবারের পুত্রবধূ হয়েও আরাম-আয়েশের জীবন ছেড়ে তিনি বেছে নিয়েছিলেন বিএনপির কণ্টকাকীর্ণ রাজনীতির পথ। দলের দুঃসময়ে এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর অপরিসীম ভূমিকা এখন দলের সর্বস্তরে মূল্যায়নের দাবি রাখছে।

দীর্ঘ ১৭ বছরের আওয়ামী দুঃশাসনে মাম্যাচিং রাজপথে থেকে দলের কর্মসূচি পালন করেছেন। একাধিকবার হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন, এমনকি হুলিয়া মাথায় নিয়ে করেছেন ফেরারি জীবনযাপন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে রাজনীতিতে পা রাখা এই নেত্রী ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত নারী আসনে সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০৭ এবং ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি বান্দরবান জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে মাত্র ৮৫৩ ভোটে পরাজিত হন মাম্যাচিং। সে সময় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রাজপুত্র সাচিংপ্রু জেরী ১৪ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। দলীয় সূত্রমতে, সেই বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলে মাম্যাচিং বিপুল ভোটে নির্বাচিত হতেন। বর্তমানে তিনি ২০১২ সাল থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির উপজাতীয় বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের মধ্যে শ্যালক-সম্বন্ধির সম্পর্ক থাকায় স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং লুটপাটের এক অভয়ারণ্য গড়ে উঠেছিল বলে অভিযোগ করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি নেতাকর্মী। বান্দরবানবাসী পাহাড়ি-বাঙালি কোনো জনগোষ্ঠীই সেই কলঙ্কিত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না। আত্মীয়করণ ও পুনর্বাসন বাদ দিয়ে দলের দুঃসময়ের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের জোর দাবি উঠেছে স্থানীয় পর্যায়ে।

জেলা যুবদলের সাবেক সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন শাহীন বলেন, পার্বত্য জেলা পরিষদ হলো স্থানীয় উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তির হাতেই চেয়ারম্যানের পদটি অলংকৃত হওয়া উচিত। সেই বিবেচনায় দলের পরীক্ষিত সৈনিক মাম্যাচিংয়ের কোনো বিকল্প নেই, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতায় তিনি সবার চেয়ে এগিয়ে।

সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক চনুমং মারমা জানান, পাহাড়ের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জোরালো দাবি হলো পার্বত্য চট্টগ্রামে বিএনপির পরীক্ষিত সৈনিক মাম্যাচিং দিদিকে চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব দেওয়া হোক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকের নাম ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা চললেও দলের নেতাকর্মীরা আত্মীয়করণের রাজনীতি আর কখনোই মেনে নেবেন না।

জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. জাবেদ রেজার মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি সম্প্রদায়ে বিএনপির দুজন প্রবীণ ও গুরুত্বপূর্ণ নেতা রয়েছেন। তাদের মধ্যে সাচিংপ্রু জেরীকে সংসদ সদস্য করা হয়েছে, তাই এখন মাম্যাচিংকে মূল্যায়নের সময় এসেছে। শেষ বয়সেও দলের জন্য তাঁর যে ত্যাগ, তিতিক্ষা এবং রাজনৈতিক মামলার শিকার হয়ে নির্যাতনের ইতিহাস রয়েছে, তা অতুলনীয়। মাম্যাচিং দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেত্রী এবং তিনি কখনোই দলের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাননি। পাহাড়ি ও বাঙালি—উভয় জনগোষ্ঠীর কাছে আস্থাশীল এই নেত্রী বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে মূল্যায়িত হবেন, এটাই দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা।