
চট্টগ্রামের রাউজানে একটি হিন্দু বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সংঘরাজ বৌদ্ধ বিহারে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আবুরখীল গ্রামের ওই বিহারে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর ঠিক এক দিন আগে, গত সোমবার উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নে একটি হিন্দু বাড়িতেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল।
ডাবুয়া ইউনিয়নের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সূত্র থেকে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নন্দলালের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ওই গ্রামের বাসিন্দা আষ্কিত মিত্র এবং নন্দরাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আগুনে তাদের দুজনেরই ব্যাপক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এদিকে, আবুরখীল গ্রামের সংঘরাজ বৌদ্ধ বিহারে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে বিহারের অধ্যক্ষ শ্রদ্ধাপাল ভিক্ষু ঘটনার রোমহর্ষক বিবরণ দিয়েছেন। তিনি জানান, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার রাতেও তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু রাত ৪টার দিকে চারপাশ ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে গেলে তিনি জেগে ওঠেন। এরপর দরজা খুলে বাইরে বের হয়ে তিনি দেখতে পান যে বিহারে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। পরে এলাকার লোকজন দ্রুত ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন, তবে তার আগেই আগুনে অনেক কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে পুরো বিহারই পুড়ে যেত বলে জানান শ্রদ্ধাপাল ভিক্ষু।
তিনি দৃঢ়ভাবে দাবি করেন যে, এটি পরিকল্পিতভাবে লাগানো একটি আগুন। তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের আগে রাতে কেউ একজন বিহারের দরজায় আঘাত করেছিল। তিনি ভেতর থেকে ‘কে’ জানতে চাইলে তারা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায় এবং ঠিক এরপর রাত ৪টার দিকে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
সংঘরাজ বৌদ্ধ বিহারে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে বুধবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রাউজান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মামুন। পুরো ঘটনার বিষয়ে রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে এটি কোনো পরিকল্পিত ঘটনা নয়, বরং এটি একটি দুর্ঘটনা।
পুলিশের ধারণা, কারও ফেলে দেওয়া বিড়ি বা সিগারেটের অবশিষ্টাংশ থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে বলে জানিয়েছেন ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম।