সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সীতাকুণ্ডে বিএনপি ও যুবদলের সংঘর্ষের পর টমেটোখেতে যুবকের লাশ উদ্ধার

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১১ মার্চ ২০২৬ | ৭:১৭ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপি ও যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের এক দিন পর এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের গুপ্তাখালী এলাকার একটি টমেটোখেত থেকে ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত ২৫ বছর বয়সী ওই যুবকের নাম সজীব চৌধুরী। তিনি মিরসরাই উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খোরমাওয়ালা গ্রামের শাহ আলমের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে মুরাদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাব উদ্দিনের অনুসারীদের সঙ্গে বিএনপির কর্মী মোহাম্মদ আলিমের অনুসারীদের মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে গতকাল রাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছিল, তবে নিহত সজীব চৌধুরীকে সেখানে নেওয়া হয়নি। আজ সকালে ওই এলাকায় গিয়ে পুলিশ সজীব চৌধুরীর লাশ উদ্ধার করে।

জানা গেছে, মোহাম্মদ আলিমের বর্তমানে বিএনপিতে কোনো আনুষ্ঠানিক পদ নেই, তবে তিনি সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির গুপ্তাখালী ওয়ার্ডের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অন্যদিকে, নিহত সজীব চৌধুরী মূলত যুবদল নেতা শাহাব উদ্দিনের বাড়িতে দারোয়ান হিসেবে কাজ করতেন।

এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে যুবদল নেতা শাহাব উদ্দিন দাবি করেছেন, কিছুদিন আগে এলাকায় রিকশার ব্যাটারি চুরি নিয়ে একটি সালিস হয়েছিল। ওই সালিসে ২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার শর্তে চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আলিমের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এ ঘটনার দেড় মাস পার হয়ে যাওয়ার পরও টাকা পরিশোধ না করায় মোহাম্মদ আলিমের সঙ্গে শাহাব উদ্দিনের কথা-কাটাকাটি হয়।

শাহাব উদ্দিনের অভিযোগ, এই ঘটনার জেরে গুপ্তাখালী এলাকায় তাঁর কয়েকজন স্বজন ও অনুসারীর ওপর মোহাম্মদ আলিমের লোকজন অতর্কিত হামলা চালান এবং এতেই সজীব চৌধুরীর মৃত্যু হয়।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে মোহাম্মদ আলিমের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার দাবি করেছেন ভিন্ন কথা। তাহমিনা আক্তারের ভাষ্যমতে, গতকাল দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণ কর্মসূচি চলার সময় মোহাম্মদ আলিম সেখানে গিয়েছিলেন এবং সেখানেই মোহাম্মদ আলিমের সঙ্গে শাহাব উদ্দিনের কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সন্ধ্যায় ইফতারের পর কয়েকজন যুবক এসে দোকানের সামনে থেকে মোহাম্মদ আলিমকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং তা থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

পুরো ঘটনার বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, মূলত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করেই মোহাম্মদ আলিম ও শাহাব উদ্দিনের পক্ষের লোকজনের মধ্যে এই মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে তিনি আগেই শুনেছিলেন। কিন্তু আজ সকালেই তিনি জানতে পারেন যে সজীব চৌধুরীর লাশ টমেটোখেতে পড়ে আছে।

ওসি মো. মহিনুল ইসলাম আরও জানান, গতকালের মারামারির ঘটনায় সজীব চৌধুরী নিজেও অংশগ্রহণ করেছিলেন বলে তিনি প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।