সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সকল ধর্মের মানুষের জন্য শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

বাসস | প্রকাশিতঃ ১৪ মার্চ ২০২৬ | ৪:২৪ অপরাহ্ন


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকল ধর্মের মানুষের জন্য শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন।

তিনি বলেছেন, আজ সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসেছি, এক কাতারে রয়েছি এবং এটিই আমাদের আবহমানকালের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ।

কেউ যেন আমাদের মধ্যে বিভেদ ও বিরোধ সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টান, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী—আমরা সবাই মিলেই ভালো থাকব।

আজ শনিবার সকাল সোয়া ১১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবায়েত, বিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের সম্মানী দেওয়ার কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

বগুড়ার বায়তুল রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের ইমাম হোসাইন আহমেদ আবদুল্লাহর হাতে সম্মানীর চেক হস্তান্তরের মাধ্যমে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

পরে আইবাস সিস্টেমে ‘সেন্ট বাটন’ প্রেস করে সম্মানীর টাকা নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আজ থেকে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু হলো।

যাদের প্রয়োজন, সারা দেশে তাদের প্রত্যেককে পর্যায়ক্রমিকভাবে এই সহায়তা দেওয়া হবে বলে তারেক রহমান নিশ্চিত করেন।

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষ তথা প্রতিটি নাগরিকের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার রাষ্ট্রীয় সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবে বলেও জানান তারেক রহমান।

নাগরিকদের কিছু দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাষ্ট্র এবং সমাজের প্রতি নাগরিকদেরও কিছু দায়দায়িত্ব রয়েছে।

নাগরিক হিসেবে যে যার অবস্থান থেকে রাষ্ট্র এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে আগামী ১০ বছরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ দেখা যাবে বলে তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের এই কর্মসূচির অধীনে প্রথম পর্যায়ে পাইলটিং স্কিমের আওতায় মোট ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির এবং ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহারের মোট ১৬ হাজার ৯৯২ জন মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন।

পর্যায়ক্রমে সবাইকে এই কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সরকারের এসব অর্থনৈতিক কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নাগরিকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা।

দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, কেউ মসজিদে কিংবা নিজ নিজ ধর্মীয় উপাসনালয়ে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজেদের বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে চাইলে সরকার তাতে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

প্রতিটি জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মিটিংয়ে একজন ইমাম, খতিব বা ধর্মীয় প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন।

নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশকে এমন একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, যাতে আর কোনো ফ্যাসিবাদ কিংবা তাবেদার অপশক্তি মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে না পারে।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সরকারের সময় দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি’ চালু করা হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মসজিদ রয়েছে এবং এই মসজিদগুলোকে ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা যেতে পারে।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সরকারের আমলেই দেশে প্রথমবারের মতো এই একাডেমি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৯৩ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় দেশে ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা’ কার্যক্রম চালু হয়েছিল।

বর্তমান সরকারও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের একটি নির্দিষ্ট হারে সম্মানী ভাতা প্রদানের পাশাপাশি তাদের যোগ্যতাকে কীভাবে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে আরও কাজে লাগানো যায়, সেই পরিকল্পনা গ্রহণ করছে বলে তারেক রহমান জানান।

ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ রাষ্ট্র আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করলেও ধৈর্য, সততা, কৃতজ্ঞতাবোধ, শ্রদ্ধা, আনুগত্য, সংহতি, সহনশীলতা, উদারতা, বন্ধুত্ব, বিনয়, দায় বা দয়া ছাড়া মানবিক হওয়া যায় না।

এ ধরনের মানবিক বৈশিষ্ট্যগুলো অর্জনের জন্য ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হওয়া জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

‘যার আমানতদারি নেই, যার কাছে নিরাপত্তা নেই, সে প্রকৃত ইমানদার নয় এবং যার ওয়াদা ঠিক নেই, তার কোনো ধর্মই নেই’—পবিত্র হাদিসের এই উক্তি টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবেশ থেকে অর্জিত আচরণ থেকেই মানুষ শুদ্ধ জীবন ও সুস্থ চিন্তার নির্দেশনা পায়।

তিনি বলেন, প্রতিহিংসা ও আসাম্প্রদায়িকতা বা সহিংসতামুক্ত একটি নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণের ক্ষেত্রে ধর্মের এই উদারনৈতিক শিক্ষণীয় বক্তব্যগুলো অতুলনীয়।
একটি নৈতিকতাসমৃদ্ধ মানব সমাজ গঠনের জন্য প্রতিটি ধর্মেই এ ধরনের ইতিবাচক বার্তা রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ধর্মীয় জ্ঞানসম্পন্ন মানুষদের এ ক্ষেত্রে ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুনিয়ার কল্যাণের পাশাপাশি আখেরাতের কল্যাণের জন্য প্রার্থনার কথা পবিত্র কোরআনে কারিমে রয়েছে। ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ বিষয়ক নির্দেশনা নিঃসন্দেহে অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় বিধিবিধান অনুযায়ীও নির্দেশিত রয়েছে।

তাই ধর্মীয় বিধিবিধানের আলোকেই নিজেদের শিক্ষা-দীক্ষা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে কীভাবে আরও বেশি করে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজে লাগানো যায়, সেই চিন্তা ও চেষ্টা অব্যাহত রাখা জরুরি বলে তারেক রহমান উল্লেখ করেন।