
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় রাতের আঁধারে কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার সময় ডাম্পার ট্রাকের চাপায় সাজ্জাদ হোসেন রোহান নামের এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পশ্চিম পাশে তেমুহনী বিলের এনবিএম-৩ ইটভাটা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আজ শনিবার সকাল ৭টার দিকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাজ্জাদ হোসেন রোহান মারা যান।
নিহত সাজ্জাদ হোসেন রোহান ঢেমশা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ ফোরকানের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মহাসড়কের পশ্চিম পাশে তেমুহনী মৌজায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র রাতের আঁধারে কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে এক্সকাভেটর ও শত শত ডাম্পার ট্রাকের মাধ্যমে স্থানীয় ইটভাটায় সরবরাহ করে আসছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটার দিকে তেমুহনী বিলে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে ডাম্পার ট্রাকে তোলা হচ্ছিল।
এ সময় সেখানে প্রশাসন অভিযান চালাতে আসছে—এমন একটি খবর ছড়িয়ে পড়লে উপস্থিত শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে হঠাৎ আতঙ্ক দেখা দেয়।
উপস্থিত লোকজন দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন এবং এ সময় দৌড়াদৌড়ির মধ্যে ডাম্পার ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন সাজ্জাদ হোসেন রোহান।
নিহত সাজ্জাদ হোসেন রোহানের পিতা মোহাম্মদ ফোরকান জানান, তার ছেলে তেমুহনী বিলে মাটি কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করত।
মোহাম্মদ ফোরকান আরও জানান, গত রাতে হঠাৎ করে প্রশাসনের অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিক ও চালকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই দিগ্বিদিক ছুটোছুটি শুরু করে।
এ সময় একটি ডাম্পার ট্রাক সাজ্জাদ হোসেন রোহানকে ধাক্কা দিলে সে পড়ে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি ডাম্পার ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হয় বলে মোহাম্মদ ফোরকান উল্লেখ করেন।
পরে সাজ্জাদ হোসেন রোহানকে উদ্ধার করে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
মোহাম্মদ ফোরকান জানান, পরে চট্টগ্রাম নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে আজ সকাল সাতটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাজ্জাদ হোসেন রোহানের মৃত্যু হয়।
ঝামেলা এড়ানোর জন্য তারা থানায় কোনো অভিযোগ করেননি বলেও মোহাম্মদ ফোরকান নিশ্চিত করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত হলেই গভীর রাত পর্যন্ত এক্সকাভেটর ও ডাম্পার ট্রাক দিয়ে মাটি কাটার কাজ চলে, যার সঙ্গে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট জড়িত।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, কৃষিজমি থেকে গভীর করে মাটি কেটে নেওয়ায় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়ছে।
সার্বিক বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক জানান, নলুয়ার বিলে ডাম্পার ট্রাকের চাপায় এক যুবকের মৃত্যুর খবর তারা শুনেছেন, তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
ওসি মঞ্জুরুল হক আরও জানান, গতরাতে মাটি কাটার বিরুদ্ধে কোনো অভিযান পরিচালনা করা হয়নি, তবে রাতে পুলিশের টিম বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
অন্যদিকে, সাতকানিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও গত রাতে কোনো ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হয়নি।