সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

লটারি নয়, সরকারি স্কুলে ভর্তি পরীক্ষার কথা ভাবছে সরকার

ভর্তি লটারিকে ‘ব্ল্যাক বক্স’ বলছেন অভিভাবকরা: উপদেষ্টা মাহদী আমিন
একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৬ মার্চ ২০২৬ | ৪:৫৪ অপরাহ্ন


রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আজ সোমবার সকালে আয়োজিত এক সংলাপে সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তিতে বিদ্যমান লটারি পদ্ধতির বদলে ভর্তি পরীক্ষা চালুর বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত এই উপদেষ্টা জানান, লটারি পদ্ধতি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ থাকায় এবং প্রক্রিয়াটি অনেকের কাছে অস্বচ্ছ মনে হওয়ায় মেধাভিত্তিক এই পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে।

আজ সোমবার সকাল ১০টায় ‘এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ’-এর আয়োজনে ‘নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে আগামী দিনের শিক্ষা খাত: নতুন চিন্তা, নতুন কাঠামো ও নতুন পদক্ষেপ’ শীর্ষক সংলাপে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাহদী আমিন এসব কথা বলেন।

লটারির মাধ্যমে ভর্তিপ্রক্রিয়াকে সহজ ও দুর্নীতিমুক্ত করার চেষ্টা করা হলেও বাস্তবে অনেক অভিভাবক এটিকে ‘ব্ল্যাক বক্স’ পদ্ধতি হিসেবে দেখছেন বলে মন্তব্য করেন মাহদী আমিন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, কে আবেদন করছেন, কীভাবে নির্বাচন হচ্ছে—এসব বিষয়ে অনেকের কাছেই স্পষ্ট ধারণা থাকে না।

পরীক্ষাভিত্তিক ভর্তিপদ্ধতি চালু হলে শিক্ষার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা—দুটিই বাড়তে পারে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উপদেষ্টা বলেন, লটারি পদ্ধতির বদলে পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করা হলে মেধার মূল্যায়নের একটি সুস্পষ্ট কাঠামো তৈরি হতে পারে।

শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য কমানো এবং মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম ও মাদ্রাসা—এই তিন ধারার শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি সরকারি ভালো স্কুলে সীমিত আসনের কারণে ভর্তিতে তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে।

তবে ভর্তি পরীক্ষা চালুর বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয় জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের মতামত নিয়ে এবং শিক্ষাব্যবস্থায় সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মূলত শিক্ষা খাতে সংস্কারের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ভর্তি নীতিমালার এই পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় আনা হচ্ছে।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে পাঠ্যক্রম সংস্কার, কারিগরি শিক্ষায় মনোযোগ বাড়ানো, শিক্ষায় বৈষম্য দূর করা এবং শিক্ষার মাধ্যমে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোতে জোর দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন।