সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

মহিষ চরানোর বিরোধে পটিয়ায় কিশোর খুন, গ্রেপ্তার ১

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৬ মার্চ ২০২৬ | ৫:১৫ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় মহিষ চরানোকে কেন্দ্র করে পূর্ববিরোধের জেরে মো. হাসান বাবু নামের ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে শোভনদণ্ডী ইউনিয়নের কুরানগিরি গ্রামের একটি বিলে এই ঘটনা ঘটে এবং রাতেই তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের মা হাছিনা আকতার বাদী হয়ে মামলা করার পর প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

হাছিনা আকতার জানান, তার শ্বাসকষ্ট থাকায় ছেলে হাসান বাবু তাকে বেশি কাজ করতে দিত না। তার আগে আরও দুটি ছেলে জন্মের পর মারা যায়, তাই একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে তিনি দিশেহারা। পরিকল্পিতভাবে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে তিনি এর বিচার চান।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত মো. হাসান বাবু কুরানগিরি গ্রামের মো. আমিনুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রী হাছিনা আকতারের একমাত্র সন্তান। মহিষ চরানো নিয়ে বিরোধের জেরে রোববার বিকেল চারটা থেকে সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে কুরানগিরি গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চৈতার মার খালের ঢালে তাকে পিটিয়ে ও গলা টিপে হত্যা করা হয়। রাতে লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রোববার দিবাগত রাত একটার দিকে মো. জয়নাল আবেদীন ওরফে লিমন নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাররাহুম আহমেদের আদালতে হাজির করা হলে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি জানান, কয়েকজন মিলে হাসানকে হত্যার পর খালে ফেলে দেন তারা।

নিহত কিশোরের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত পাঁচ দিন ধরে গ্রামের ফোরকান নামের এক ব্যক্তির ১১টি মহিষ পাশের বিলে চরাত হাসান। রোববার সকালেও মহিষগুলো নিয়ে কুরানগিরি গ্রামের চৈতার মার খালের কাছে যায় সে। দুপুরে বাড়িতে খেতে এলেও পরে আবার মাঠে ফিরে যায়। সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজনেরা। একপর্যায়ে সন্ধ্যা সাতটার দিকে খালের ঢালে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়। তার শরীরে মাটি, নাক-মুখে রক্ত এবং গলায় একাধিক নখের জখম ছিল।

পটিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) যুযুৎসু যশ চাকমা জানান, এই ঘটনায় হাসান বাবুর মা হাছিনা আকতার বাদী হয়ে পটিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় একই এলাকার আবুল কাসেমের ছেলে মো. জয়নাল আবেদীন ওরফে লিমনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মো. লিমনের পরিবারের সঙ্গে হাসান বাবুদের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এর আগেও তারা হাসান ও তার মাকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন, যা নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিস বৈঠকও হয়েছিল।