সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সময়সীমা পার হলেও ঈদ বোনাস দেয়নি অর্ধেক কারখানা

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৭ মার্চ ২০২৬ | ৫:৪৩ অপরাহ্ন


নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও দেশের এক-চতুর্থাংশ শিল্পকারখানায় গত ফেব্রুয়ারির বেতন এবং প্রায় অর্ধেক কারখানায় শ্রমিকের ঈদ বোনাস এখনো বকেয়া রয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সুনির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়ার পরও মালিকপক্ষের এমন গড়িমসির কারণে প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-ভাতার দাবিতে রাস্তায় নামতে দেখা যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে।

শিল্প পুলিশের তদারকিতে থাকা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১০ হাজার ১০০ শিল্পকারখানার তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সোমবার পর্যন্ত ২৫ শতাংশ বা ২ হাজার ৫৪৪টি কারখানা গত মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করেনি। এ ছাড়া ৪৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ বা ৫ হাজার ৭টি কারখানা এখনো শ্রমিকদের ঈদ বোনাস দেয়নি।

চলতি মাসের শুরুতে মালিক, শ্রমিক ও সরকারের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী দেশের শিল্পকারখানার শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ৯ মার্চ ও ঈদ বোনাস ১২ মার্চের মধ্যে দেওয়ার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সচল ও রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে শ্রমিক-কর্মচারীদের এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থাও করেছে সরকার। এ ছাড়া চলতি মাসে রপ্তানিমুখী শিল্প খাতের বকেয়া ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার নগদ সহায়তা ছাড় করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এত উদ্যোগের পরও অনেক কারখানায় পাওনা পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

এ বিষয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাবেক মহাসচিব সালাউদ্দিন স্বপন বলেন, তৈরি পোশাকশিল্পের কিছু মালিক ইচ্ছা করেই ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ও বোনাস দেরিতে দিচ্ছেন। কারণ হিসেবে সালাউদ্দিন স্বপন উল্লেখ করেন, আগে বেতন-বোনাস দিলে শ্রমিকেরা চলতি মাসের বেতনের একটি অংশ চাইবেন। অথচ কিছু কারখানা ইতিমধ্যে ফেব্রুয়ারির বেতন-বোনাস ও চলতি মার্চের ১০ দিনের বেতনও পরিশোধ করেছে বলে তিনি জানান।

এদিকে, কারখানার মালিককে খুঁজে না পাওয়ায় গাজীপুরের এইচডিএফ অ্যাপারেলসের শতাধিক শ্রমিকের বেতন-ভাতা পরিশোধ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের একটি কারখানার বেতন–ভাতা ও বোনাস পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে পরে নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর তিনজন নেতা কারখানাটিকে ৩০ লাখ টাকা ঋণ দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার শিল্পাঞ্চলে ব্যাংক লেনদেন হবে এবং এর মধ্যেই কারখানাগুলো শ্রমিকের বেতন–ভাতা ও বোনাস পরিশোধ করে ছুটি দেবে। বেতন-বোনাস নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না বলে মোহাম্মদ হাতেম আশা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ জানিয়েছে, ঢাকা ও চট্টগ্রামে তাদের সদস্য সচল কারখানার সংখ্যা ২ হাজার ১২৭টি। এর মধ্যে গতকাল পর্যন্ত ২ হাজার ৯০টি কারখানা ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন দিয়েছে, অর্থাৎ বেতন পরিশোধ বাকি আছে ৩৭টি কারখানায়। আর ঈদ বোনাস দিয়েছে ২ হাজার ৫১টি কারখানা, এখনো বোনাস দেয়নি ৭৬টি। এ ছাড়া ৫টি কারখানায় জানুয়ারি মাসের বেতন বাকি আছে এবং ৪৭৮টি শিল্পকারখানা মার্চ মাসের অগ্রিম বেতন দিয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, শেষ মুহূর্তে দু-একটি কারখানায় বেতন-ভাতা ও বোনাস পরিশোধে সমস্যা হলেও হতে পারে। তেমন কিছু হলে সংগঠনের পক্ষ থেকে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। শ্রমিকের বেতন-বোনাস পরিশোধের বিষয়টি বিজিএমইএর পক্ষ থেকে যথাযথভাবে তদারক করা হচ্ছে বলে মাহমুদ হাসান খান নিশ্চিত করেন।

বিজিএমইএ সূত্র আরও জানায়, আজ মঙ্গলবার ৩৫ শতাংশ বা ৬২৫টি তৈরি পোশাক কারখানায় ঈদের ছুটি শুরু হবে। আগামীকাল বুধবার ৪৫ শতাংশ বা ৮০৩টি কারখানায় এবং বৃহস্পতিবার ৮৯টি কারখানায় ছুটি হবে।