সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

ঈদ যাত্রা: চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকে লাল পতাকা

বাসস | প্রকাশিতঃ ১৭ মার্চ ২০২৬ | ৬:৩৮ অপরাহ্ন


ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ ৯টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে সতর্ক সংকেত হিসেবে লাল পতাকা স্থাপন করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। রবিবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দক্ষিণ চট্টগ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের উভয় পাশে সারিবদ্ধভাবে এসব পতাকা বসানো হয়, যাতে দূর থেকেই চালকেরা বিপজ্জনক বাঁক সম্পর্কে সতর্ক হতে পারেন এবং দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

মঙ্গলবার বিআরটিএ চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) উথুয়াইনু চৌধুরী এই তথ্য জানান। উথুয়াইনু চৌধুরী জানান, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে প্রতিটি বাঁকে চালকদের সতর্ক করতে উভয় পাশে সারিবদ্ধভাবে পাঁচটি করে মোট ১০টি লাল পতাকা স্থাপন করা হয়েছে। ঈদের সময় এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় আগাম সতর্কতা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এতে দুর্ঘটনা কিছুটা হলেও কমবে বলে উথুয়াইনু চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন।

বিআরটিএর তালিকা অনুযায়ী, মহাসড়কের যেসব স্থানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে লোহাগাড়ার চুনতির শেষ সীমানায় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য সংলগ্ন বাঁক, লোহাগাড়া-চুনতির জাঙ্গালিয়া বাঁক, চুনতির ডেপুটি বাজারের আগে ও পরের বাঁক, চুনতি ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকা, লোহাগাড়া রাজাঘাটা, সাতকানিয়ার মিঠা দিঘি, চন্দনাইশের খানহাট পুকুর এবং পটিয়ার পাইরুল মাজার সংলগ্ন বাঁক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছরে এসব বাঁকে একাধিক প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে গত বছরের ঈদুল ফিতরের দিন সকালে লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া এলাকায় একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কয়েকজন নিহত হওয়ার পর থেকেই বাঁকগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর জোর দাবি ওঠে।

মহাসড়কে চলাচলকারী কয়েকজন চালক জানান, রাতে বা কুয়াশার সময় হঠাৎ বাঁক সামনে চলে আসায় দুর্ঘটনার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়। তবে নতুন করে এই লাল পতাকা বসানোয় আগেভাগেই সতর্ক হওয়া সহজ হবে বলে চালকেরা মনে করছেন।

তবে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু অস্থায়ী লাল পতাকা নয়, সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে স্থায়ী সাইনবোর্ড, গতিসীমা নির্দেশনা, রিফ্লেক্টর ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি এসব এলাকায় অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।