সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক আবদুল জলিলকে অপসারণের কারণ কী?

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৭ মার্চ ২০২৬ | ৭:৫৬ অপরাহ্ন


গ্রাহককে বিশেষ সুবিধা দেওয়া এবং রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য অর্থ আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক মো. আবদুল জলিলকে তাঁর পদ থেকে অপসারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল সোমবার তাঁকে অপসারণ করে একই পদে নতুন স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে অভিজ্ঞ ব্যাংকার ও সনদপ্রাপ্ত হিসাববিদ এস এম আবদুল হামিদকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, মো. আবদুল জলিল শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন। এরপর তিনি ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘ সময় চাকরি করেন এবং পরবর্তীতে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক থেকে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পদ থেকে অবসরে যান। ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে তাঁর এই পুরোনো সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে ব্যাংকটির একজন গ্রাহককে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে ওই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁকে প্রাথমিকভাবে সতর্ক করা হয়েছিল। শুরুতে মো. আবদুল জলিলকে পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান করা হলেও অভিযোগ ওঠায় তাঁকে সেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তবে তিনি পরিচালক পদে বহাল ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে আরও জানা যায়, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগপর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক এস আলম গ্রুপের একক নিয়ন্ত্রণে ছিল। এই দীর্ঘ সময়ে ব্যাংকটি থেকে নামে-বেনামে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা তুলে নেয় গ্রুপটি এবং পরীক্ষা ছাড়াই প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব ব্যাপক অনিয়মের কারণে ব্যাংকটি বড় ধরনের সংকটের মধ্যে পড়ে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংকটির পর্ষদ পুনর্গঠন করে। ওই পুনর্গঠিত পর্ষদেই মো. আবদুল জলিলকে সদস্য হিসেবে যুক্ত করা হয়েছিল।

সূত্র জানায়, মো. আবদুল জলিল জামায়াতপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগও ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এসব কারণেই শেষ পর্যন্ত তাঁকে পরিচালক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো। জানা গেছে, গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ সদস্যদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন, যেখানে ব্যাংকের সার্বিক দিক নিয়ে আলোচনা হয় এবং মো. আবদুল জলিলও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে সভা শেষ হওয়ার পর বিকেলেই তাঁকে অপসারণ করে এস এম আবদুল হামিদকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

নতুন দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এস এম আবদুল হামিদ সাংবাদিকদের জানান, তাঁকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তিনি মুঠোফোনে চিঠির কপি পেয়েছেন। ঈদের পর তিনি কাজ শুরু করবেন জানিয়ে এস এম আবদুল হামিদ আরও বলেন, ব্যাংকটিতে বড় ঝামেলা রয়েছে, ফলে সেখানে অনেক কাজ করতে হবে।

এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান মো. আবদুল জলিলকে অপসারণের বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।