
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আর মাত্র এক দিন বাকি থাকলেও খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি তেলের সংকটে ব্যবসায়ীদের ঈদ আনন্দে ভাটা পড়েছে। তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় উপজেলার অধিকাংশ ডিলার পয়েন্ট ও খুচরা তেলের দোকান বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর সৃষ্ট বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়েছে। জানা গেছে, এ পর্যন্ত ২৮টি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে এবং কিছু জাহাজ থেকে তেল খালাসও হয়েছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় পার্বত্য অঞ্চলের মতো দূরবর্তী এলাকায় এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সরেজমিনে উপজেলার বোয়ালখালী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, পলাশ ফিলিং স্টেশন ও দীঘিনালা ট্রেডিং করপোরেশন ছাড়া আল নোমান ট্রেডিং, শাহ আমানত ট্রেডার্স, কবাখালির মনির এন্টারপ্রাইজ এবং হোসেন এন্টারপ্রাইজসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অকটেন ও ডিজেল নেই। অনেক দোকান বন্ধ রয়েছে এবং কিছু দোকান খোলা থাকলেও সেখানে ‘অকটেন ও ডিজেল নেই’ লেখা নোটিশ ঝুলতে দেখা গেছে। এতে ক্রেতাদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বোয়ালখালী বাজারের যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ডিলার ‘আল নোমান ট্রেডিং’-এর স্বত্বাধিকারী মো. হাবিব উল্লাহ জানান, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি তেল না থাকায় তাঁর ব্যবসা বন্ধ রয়েছে। ঈদকে ঘিরে বাড়তি আয়ের আশা থাকলেও তেল সংকটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না উল্লেখ করে মো. হাবিব উল্লাহ বলেন, আয় না থাকায় কর্মচারীদের বেতনসহ অন্যান্য খরচ মেটাতে গিয়ে তিনি বড় ধরনের লোকসানে পড়েছেন এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপনের পরিকল্পনাও ভেস্তে গেছে।
একই বাজারের আরেক ডিলার ‘শাহ আমানত ট্রেডার্স’-এর ম্যানেজার দিলীপ কুমার মল্লিক জানান, তেল সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের ব্যবসাও বন্ধ। ঈদের আশা পূরণ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে কর্মচারীদের আগেই ছুটিতে পাঠাতে হয়েছে এবং তাঁদের আর্থিক লোকসানে পড়তে হচ্ছে বলে দিলীপ কুমার মল্লিক উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, কবাখালী বাজারের ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’-এর খুচরা বিক্রেতা মো. বাশার জানান, রমজানের শুরুর দিকে একবার তেল আনলেও এরপর থেকে আর কোনো তেল পাননি তিনি। তাই দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন জানিয়ে মো. বাশার বলেন, এখন পরিবার নিয়ে ঈদ উদ্যাপন করা নিয়েও তিনি চরম দুশ্চিন্তায় আছেন।
পাশাপাশি, মনির এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আলী বলেন, জ্বালানি তেল ব্যবসার ওপরই তাঁদের জীবিকা নির্ভর করে। কিন্তু দীর্ঘদিন তেল না পাওয়ায় দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছে এবং বাধ্য হয়ে কর্মচারীকেও ছাঁটাই করেছেন বলে মো. আলী জানান।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের আগে ও পরে জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণত ব্যবসায়ীদের লাভের অঙ্ক বেশি থাকে। কিন্তু চলমান সংকটে এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিক্রি না থাকায় অনেক ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। তেল সংকটের এই বিরূপ প্রভাব পরিবহন খাতেও পড়েছে এবং চালকসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা, যাঁদের কাছে এবারের ঈদ আনন্দের পরিবর্তে চরম দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।