সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

বান্দরবানে পাহাড়ের খাদে মা ও মেয়ের লাশ, স্বামী পলাতক

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৯ মার্চ ২০২৬ | ১০:০০ অপরাহ্ন


বান্দরবান জেলা শহরের অদূরে মেঘলা পর্যটন এলাকার দাঁতভাঙাপাড়ায় পাহাড়ের গভীর খাদ থেকে দো ওয়াই মারমা (২৬) নামের এক নারী এবং তাঁর চার বছর বয়সী মেয়ে বৃষ্টি তঞ্চঙ্গ্যার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে। প্রায় ২০০ ফুট উঁচু খাড়া পাথরের আলিংথন পাহাড় থেকে পড়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন, নাকি নির্মম হত্যার শিকার হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে মা দো ওয়াই মারমা ও মেয়ে বৃষ্টি তঞ্চঙ্গ্যার লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। এরপর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকে দো ওয়াই মারমার স্বামী উদয় তঞ্চঙ্গ্যা পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহত দো ওয়াই মারমার বাবার বাড়ি চেমিডলুপাড়ায়। বিয়ের পর তিনি স্বামী উদয় তঞ্চঙ্গ্যার সঙ্গে ডলুছড়িপাড়ায় থাকতেন। এক দিন আগেই স্বামী উদয় তঞ্চঙ্গ্যার সঙ্গে তাঁর প্রচণ্ড ঝগড়া হয়েছিল এবং সে সময় জনসমক্ষে স্বামী তাঁকে মারধর করেছিলেন।

এ বিষয়ে উদয় তঞ্চঙ্গ্যার খালা বর্ষা তঞ্চঙ্গ্যা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গতকাল বুধবার উদয় তঞ্চঙ্গ্যা তাঁর শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে স্ত্রী দো ওয়াই মারমা ও সন্তান বৃষ্টি তঞ্চঙ্গ্যাকে বাড়িতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে আলিংথন পাহাড়ে গিয়ে স্ত্রী ও সন্তানকে দেখতে পান তিনি। সে সময় স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয় এবং একপর্যায়ে স্ত্রীকে মারধর করেন উদয় তঞ্চঙ্গ্যা। এই সময় স্ত্রীকে মারধর করতে দেখে স্থানীয় কয়েকজন উদয় তঞ্চঙ্গ্যাকে ধরে থানায় নিয়ে যান। রাতে থানা থেকে ফেরার পর স্ত্রী ও মেয়েকে আবারও বাড়িতে পাননি তিনি। পরে আজ সকালে আলিংথন পাহাড়ের খাদে মা ও মেয়ের লাশ খুঁজে পাওয়া যায়।

বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মান্না দে জানিয়েছেন, মা দো ওয়াই মারমা ও মেয়ে বৃষ্টি তঞ্চঙ্গ্যার মৃত্যুর ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের বিষয়টি জানা গেছে। কিন্তু বিস্তারিত তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে মান্না দে উল্লেখ করেন।