
ইট-পাথরে বন্দী জীবনে একটুখানি স্বস্তি পেতে মানুষ ছুটে যায় প্রকৃতির সান্নিধ্যে। এবার প্রকৃতির সেই নির্মল পরিবেশের সঙ্গে সুস্বাদু খাবারের স্বাদ দিতে কক্সবাজারের চকরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চল চিরিঙ্গা-বদরখালী সড়কের ইলিশিয়া লম্বা রাস্তার মাঝপয়েন্টে গড়ে তোলা হয়েছে ভাসমান রেস্তোরাঁ ‘কাঁচালং রেস্টুরেন্ট ও লোটাস কনভেনশন পার্ক’। পানির ওপর গড়ে ওঠা নান্দনিক এই রেস্তোরাঁটি ঘিরে এই অঞ্চলে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ব্যতিক্রমী এই রেস্তোরাঁটির উদ্যোক্তা হলেন বাংলাদেশ ও কলকাতার জনপ্রিয় কমেডিয়ান শিল্পী এবং চকরিয়া উপজেলার কৃতী সন্তান কমরউদ্দিন আরমান। তিনি জানিয়েছেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন (২১ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে এই রেস্তোরাঁর পথচলা শুরু হচ্ছে। উদ্বোধনী দিনে ক্রেতাসাধারণের জন্য কমরউদ্দিন আরমান নিজেই গান গেয়ে শোনাবেন বলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আগেই ঘোষণা দিয়েছেন।
উদ্যোক্তা কমরউদ্দিন আরমান জানান, চকরিয়া উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলটি ‘চিংড়ি জোন’ হিসেবে সারা দেশে সুখ্যাতি লাভ করেছে। এখানে চারপাশের হাজার হাজার চিংড়িঘেরে মানুষ দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে নিরাপদ মৎস্য চাষের সঙ্গে জড়িত। বর্তমান সময়ে মানুষ সুন্দর ও নিরিবিলি পরিবেশে একটু সময় কাটাতে চায়। সেই সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতেই এই রেস্তোরাঁর ব্যবসা শুরু করা হয়েছে। মূলত চিংড়ি জোনের পাশের জলরাশির মনোমুগ্ধকর পরিবেশে সাধারণ মানুষকে একটুখানি প্রকৃতির সান্নিধ্য দিতেই এই অভিজাত রেস্তোরাঁ গড়ে তোলা হয়েছে বলে কমরউদ্দিন আরমান উল্লেখ করেন।
কমরউদ্দিন আরমান আরও জানান, রোজার শুরুতেই তাঁরা ক্রেতাসাধারণের মাঝে রকমারি সুস্বাদু ইফতারসামগ্রী বিক্রি শুরু করেছিলেন। রেস্তোরাঁর বাহ্যিক সৌন্দর্য ভিন্নধর্মী হওয়ায় শুরুতেই এখানে দর্শনার্থী ও ক্রেতা সমাগম ব্যাপক হারে বেড়েছে। প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ভবিষ্যতে সেখানে বড় ধরনের রিসোর্ট এবং মিনি পার্ক তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে এলাকার প্রায় ৫০ জন বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রেস্তোরাঁটি গ্রামীণ পরিবেশে অবস্থিত হলেও এখানে শহরের অভিজাত রেস্তোরাঁর মতো সব ধরনের মেনু রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। খাবারের পাশাপাশি এখানে নৌকাভ্রমণ এবং বিলের পাড়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে বসার সুব্যবস্থাও রয়েছে। এমনকি ভোজনরসিকরা চাইলে নৌকায় ভাসতে ভাসতেও খাবার খেতে পারবেন। এ ছাড়া এখানে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে বসে বিয়ে, গায়েহলুদ, করপোরেট ইভেন্টসহ সব ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজনের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানটির নামে অনলাইনে একটি গ্রুপ রয়েছে, যেখানে প্রতিদিনই বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের ফরমাশ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। উদ্যোক্তা কমরউদ্দিন আরমান আশা প্রকাশ করেন, জলের ওপর তৈরি করা এই রেস্তোরাঁর সান্নিধ্য পেতে ক্রেতা সমাগম দিন দিন বৃদ্ধি পেলে একসময় এই ভাসমান রেস্তোরাঁটি পর্যটকদের কাছে একটি আকর্ষণীয় স্পট হিসেবে আবির্ভূত হবে।