সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

বাসে ট্রেনের ধাক্কা: শিশুসহ ১২ জনের মৃত্যু, আহত ১৫

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২২ মার্চ ২০২৬ | ৯:২৩ পূর্বাহ্ন


কুমিল্লার একটি লেভেল ক্রসিংয়ে চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় অন্তত ১২ জন বাসযাত্রী নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ থেকে ১৫ জন যাত্রী। শনিবার রাত পৌনে তিনটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। কুমিল্লা ইপিজেড ফাঁড়ি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আহত যাত্রীরা জানান, ঢাকাগামী ওয়ান আপ ট্রেনটি কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে লক্ষ্মীপুর অভিমুখী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে এর প্রবল সংঘর্ষ ঘটে। বাসটি চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরের দিকে যাচ্ছিল বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা রমিজ উদ্দিন জানান, চলন্ত ট্রেনটি বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে সামনের দিকে টেনে অনেক দূরে নিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও রেলওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এরপর আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনায় আহত যাত্রী তফাজ্জল হোসেন জানান, প্রচণ্ড আওয়াজে তাঁর ঘুম ভেঙে যায় এবং পরে রক্তাক্ত অবস্থায় পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। এদিকে ট্রেনের যাত্রী ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, রেলগেটের সিগন্যালম্যানের অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে অনেকবার ফোন দেওয়া হলেও কেউ কল রিসিভ করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইদ্রিস জানান, বাসচালকের ভুলের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তার আগেই পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন আরও কয়েকটি লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছিলেন।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার অজয় ভৌমিক জানান, হতাহতদের হাসপাতালে আনা হয় রাত চারটার দিকে এবং ১২ জনের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, দুজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে। এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।

সার্বিক বিষয়ে কুমিল্লা ইপিজেড ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, রাত তিনটার দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।