সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

দেশজুড়ে পেট্রোল পাম্প বন্ধের শঙ্কা

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২৩ মার্চ ২০২৬ | ৭:১০ পূর্বাহ্ন


জ্বালানি ঘাটতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে যেকোনো সময় দেশের পেট্রোল পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। গতকাল রোববার (২২ মার্চ) রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এই উদ্বেগজনক তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, সারা দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোর অবস্থা এখন খুবই করুণ। কারণ, কোম্পানি থেকে পাওয়া দৈনিক তেল দিয়ে ক্রেতাদের বিপুল চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তেল নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় বিরামহীন দায়িত্ব পালনের অভ্যাস না থাকায় শারীরিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক চাপে পড়ছেন পাম্পে কর্মরত শ্রমিকেরা। সব মিলিয়ে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না পাওয়ার কারণে যেকোনো সময় সারা দেশের পেট্রোল পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এর আগে পেট্রোল পাম্পের তেল বিক্রিতে নিরাপত্তার প্রয়োজন বলে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছিল। তবে জ্বালানি বিপণন ব্যবস্থায় নিরাপত্তার বিষয়টি সরকার ও জেলা প্রশাসন কার্যত উপেক্ষা করছে বলে তাদের অভিযোগ। পাম্পগুলোতে তেল বিক্রির সময় কোনো কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় চরম বিশৃঙ্খলা বাড়ছে বলে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন দাবি করেছে।

সংগঠনটির দাবি, ঈদের আগের দিন একটি জেলা শহরের একটি পাম্পে ১০ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল ও একই পরিমাণ অকটেন মজুত ছিল এবং তাদের আরেকটি পাম্পে ছিল প্রায় ৮ হাজার লিটার জ্বালানি। স্বাভাবিক হিসাবে এই মজুত কয়েক দিন ধরে বিক্রি করার কথা থাকলেও হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ ও বিশৃঙ্খলার কারণে অল্প সময়েই তা শেষ হয়ে যায়। বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এই পরিস্থিতিকে একধরনের লুটতরাজ বলে উল্লেখ করেছে।

একেকজন গ্রাহক দৈনিক একাধিকবার তেল নিতে আসছেন বলে অভিযোগ করে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, প্রশাসনের নির্দেশনা মেনেই তেল বিক্রি করছে পাম্পগুলো। কিন্তু অনেক মোটরসাইকেলচালক দিনে ১০ বারের মতো তেল নিয়ে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছেন। আবার অনেকেই আংশিক ভর্তি ট্যাংক নিয়েই বারবার তেল নিতে আসছেন। এতে প্রকৃত প্রয়োজনীয় গ্রাহকেরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং পাম্পে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।

এ ছাড়া গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে পাম্পে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে পেট্রোল পাম্প খুলিয়ে জোরপূর্বক তেল নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলেও বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অভিযোগ করেছে। ঠাকুরগাঁওয়ের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, সেখানে জ্বালানি সরবরাহ চলাকালীন লাঠিসোঁটা নিয়ে সব শেষ করে দেওয়া হয়েছে। এমন ঘটনা সব পেট্রোল পাম্প মালিকের ভাগ্যেই ঘটতে চলেছে এবং এখানে ন্যূনতম কোনো নিরাপত্তা নেই বলে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, বর্তমানে জ্বালানি তেলের ঘাটতির সঙ্গে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পেট্রোল পাম্পের নিরাপত্তাবিষয়ক ইস্যুগুলো আরও বেশি সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে ডিপো থেকে তেল পরিবহনের সময়ও নিরাপত্তাঝুঁকি রয়েছে এবং ট্যাংকারগুলো পথে লুট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই বলে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন শঙ্কা প্রকাশ করেছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ঈদের আগের দিন রাতে অনেক পেট্রোল পাম্পে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য মাত্র ২০০ লিটার অকটেনও সংরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়নি। জোর করে পাম্প খুলে সেই জ্বালানি নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তাই পাম্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিত না করলে ডিপো থেকে তেল লিফটিং বা সংগ্রহ বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না বলে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন হুঁশিয়ারি দিয়েছে।