
কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাড়ির পাশে বেড়িবাঁধের রাস্তায় বেপরোয়া গতির একটি প্রাইভেট কারের ধাক্কায় নাঈমুদ্দিন (৪) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঈদের এই আনন্দঘন দিনে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রোববার (২২ মার্চ) বিকেলে চকরিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হালকাকারা মৌলভীরচর এলাকার বেড়িবাঁধের রাস্তার ওপর এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু নাঈমুদ্দিন ওই এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ নিশানের ছেলে। চকরিয়া পৌরসভার স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রেজাউল করিম দুর্ঘটনায় শিশু নাঈমুদ্দিনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, শিশু নাঈমুদ্দিন বাড়ির পাশের ওই বেড়িবাঁধ সড়কে একা খেলছিল। সাধারণত সড়কটিতে অটোরিকশা ছাড়া ভারী যানবাহন চলাচল কম থাকায় এলাকাবাসীও প্রায় সময় নিশ্চিন্তে থাকেন। স্থানীয় লোকজন জানান, গতকাল রোববার বিকেলে হঠাৎ একটি প্রাইভেট কার দ্রুতগতিতে এসে খেলারত শিশু নাঈমুদ্দিনকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়ে সড়কে লুটিয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক গাড়িটি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় শিশু নাঈমুদ্দিনকে দ্রুত উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশু নাঈমুদ্দিনের এই অকালমৃত্যুতে তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম বিরাজ করছে। বিশেষ করে নিহত শিশুর মায়ের বুকফাটা আহাজারিতে চকরিয়া সরকারি হাসপাতাল এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গ্রামীণ এলাকায় বেপরোয়া যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং শিশু নাঈমুদ্দিনকে হত্যার ঘটনায় জড়িত চালককে দ্রুত শনাক্ত করে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
রোববার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, প্রাইভেট কারের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে থানাকে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেনি। ওসি মো. মনির হোসেন আরও জানান, তিনি এখনই এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘটনায় জড়িত প্রাইভেট কার এবং ঘাতক চালককে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।