
এক-এগারোর পটপরিবর্তনের অন্যতম আলোচিত সেনা কর্মকর্তা এবং ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অন্তত পাঁচটি মামলার আসামি সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান, ডিআইজি শফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার সকালে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমরা তাঁকে গ্রেপ্তার করেছি। তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে।” তবে তাৎক্ষণিকভাবে মামলাগুলোর বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারেননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাড়ি থেকে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এক-এগারোয় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ভূমিকা
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের জরুরি অবস্থা জারি এবং ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সামরিক কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। ওই সময় সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে থাকা মাসুদ উদ্দিন এক-এগারোর পটপরিবর্তনের পর গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক হন। ওই কমিটির প্রধান ছিলেন তখনকার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এম এ মতিন।
তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (পরে চার তারকা জেনারেল) মইন উ আহমদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তিনি কার্যত ওই প্রভাবশালী কমিটি পরিচালনা করতেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হতো। ওই কমিটির নির্দেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ও শীর্ষ ব্যবসায়ীদের আটক করে দুর্নীতির মামলা দেওয়া হয়েছিল।
সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’র মাধ্যমে রাজনীতিকে নতুন রূপ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। তখন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ‘নাগরিক পার্টি’ নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও, পরে ড. মুহাম্মদ ইউনূস সেই উদ্যোগ থেকে সরে দাঁড়ান।
কূটনৈতিক দায়িত্ব ও রাজনীতিতে প্রবেশ
২০০৮ সালের জুনে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরও তিন দফায় তাঁর চাকরির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১১ সাল পর্যন্ত তাঁকে ওই দায়িত্বে রাখা হয়।
১৯৭৫ সালে রক্ষীবাহিনী গঠিত হলে সেখানে যোগ দিয়েছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, পরে তাঁদের সেনাবাহিনীতে আত্মীকরণ করা হয়। সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর একাধিক ব্যবসায় যুক্ত হওয়া এই কর্মকর্তা ২০১৮ সালে এইচ এম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে দলটির মনোনয়নে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।