
চট্টগ্রামের পটিয়ায় একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় গোল বাতিলকে কেন্দ্র করে দর্শকদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে চারজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ধলঘাট মুকুটনাইট বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধলঘাট মুকুটনাইট বড়ুয়া পাড়া এলাকায় আয়োজিত ওই টুর্নামেন্টের ফাইনালে বোয়ালখালী চরনদ্বীপ এবং চন্দনাইশ উপজেলার দুটি ফুটবল দল অংশ নেয়। এই সংঘর্ষের ঘটনায় আহতরা হলেন মো. খোরশেদ, জুবায়েদ, জিহান ও ওহিন। এদের মধ্যে ধলঘাট এলাকার মোহাম্মদ মাহবুবের ছেলে মো. খোরশেদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খেলার শুরুতে চন্দনাইশের দলটি এক গোল করে এগিয়ে যায়। ম্যাচ শেষের কিছুক্ষণ আগে বোয়ালখালী চরনদ্বীপ দল একটি গোল করলেও রেফারি সানি বড়ুয়া তা বাতিল করেন। মূলত এই গোল বাতিলকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খেলা শেষ হওয়ার মাত্র দুই মিনিট আগে দুই দলের দর্শকদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে বড় ধরনের মারামারিতে রূপ নেয়।
স্থানীয়রা পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে মো. খোরশেদ, জুবায়েদ, জিহান ও ওহিনকে বেধড়ক মারধর করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, চমেক হাসপাতালে পাঠানোর আগে আহত খোরশেদের নাক ও পেট থেকে রক্ত ঝরছিল এবং তিনি ক্রমাগত বমি করছিলেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
খেলার আয়োজক কমিটির সদস্য ও ফাইনাল ম্যাচের রেফারি সানি বড়ুয়া বলেন, দুই দলের দর্শকদের মধ্যে তর্কাতর্কি ও মারামারির কারণে খেলাটি শেষ করা সম্ভব হয়নি। গোল বাতিলের বিষয়ে তিনি জানান, একটি গোলকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরে সহকারী রেফারিদের সঙ্গে আলোচনা করে গোলটি বাতিল করা হয় এবং উভয় পক্ষের সম্মতিতে খেলা পুনরায় শুরু হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দর্শকদের মারামারিতে খেলা পণ্ড হয়ে যায়। বিষয়টি সমাধানের জন্য দুই দলকে নিয়ে পটিয়া থানায় বসার কথাও জানান তিনি।
এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।