
ডিজিটাল যুগে এসেও চট্টগ্রামের মিরসরাই ও ফটিকছড়ি উপজেলার প্রায় ৪০টি গ্রামের অন্তত ৭০ হাজার মানুষ মোবাইল নেটওয়ার্ক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। ২০১৪ সালে মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়নে রবি কোম্পানির একটি টাওয়ার স্থাপন করা হলেও যন্ত্রাংশ চুরি ও চাঁদাবাজির কারণে ২০১৮ সাল থেকে সেটি বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ সাত বছর ধরে নেটওয়ার্ক না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এই বিশাল পাহাড়ি জনপদের বাসিন্দারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাই গ্রামের মোল্লার বাগান টিলায় ২০১৪ সালে ওই টাওয়ারটি স্থাপন করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে মিরসরাই ও ফটিকছড়ি উপজেলার প্রায় ৪০টি গ্রামের মানুষ নেটওয়ার্ক সুবিধা পেতেন।
তবে ২০১৮ সালে বিভিন্ন জটিলতায় টাওয়ারটি অচল হয়ে যায়। নেটওয়ার্ক বঞ্চিত গ্রামগুলোর মধ্যে মিরসরাইয়ের নয়টিলা, ত্রিপুরা পাড়া, ইসলামপুর, পশ্চিম সোনাই এবং ফটিকছড়ির বালুটিলা, কাজীপাড়া, পূর্ব ঝিলতলী উল্লেখযোগ্য। এছাড়া এসব এলাকার অন্তত ৩০টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বিদ্যালয় ও হাটবাজারও এখন নেটওয়ার্কের বাইরে।
সম্প্রতি নেটওয়ার্ক সুবিধা চালুর দাবিতে করেরহাট ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাই এলাকায় গণস্বাক্ষর ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কর্মসূচির অন্যতম আয়োজক ও স্থানীয় তরুণ সমাজের প্রতিনিধি কামরুল হাসান নয়ন জানান, ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত নেটওয়ার্ক থাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আর্থিক লেনদেনে সুবিধা ছিল। কিন্তু বর্তমানে তাঁরা বিশাল যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার মধ্যে রয়েছেন।
কামরুল হাসান নয়ন আরও জানান, রবি কোম্পানি পুনরায় টাওয়ার চালুর জন্য প্রস্তুত থাকলেও বন বিভাগের আপত্তির কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।
নেটওয়ার্ক না থাকায় জরুরি মুহূর্তে কতটা অসহায়ত্ব তৈরি হয়, তা তুলে ধরেন সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হওয়া জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহর ফায়ারম্যান মোশারফ হোসেন শাকিল। তিনি বলেন, জলদস্যুরা সপ্তাহে একবার পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দিলেও বাড়িতে নেটওয়ার্ক না থাকায় তিনি যোগাযোগ করতে পারতেন না। মোশারফ হোসেন শাকিলের আক্ষেপ, এই যুগে এসেও তাঁদের এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই, যা ভাবতেও অবাক লাগে।
এ বিষয়ে মোবাইল অপারেটর কোম্পানি রবির টেরিটরি কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন জানিয়েছেন, সম্প্রতি বন ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একাধিক প্রতিনিধি দল এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছে। শাহাদাৎ হোসেন আশা প্রকাশ করেন, বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং শিগগিরই একটি সমাধান পাওয়া যাবে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের করেরহাট রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. হারুন অর রশিদ জানান, বন বিভাগের জায়গায় কিছু নির্মাণ করতে হলে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। উভয় মন্ত্রণালয় আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে মো. হারুন অর রশিদ নিশ্চিত করেন।
সার্বিক বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, করেরহাট ইউনিয়নে রবি টাওয়ার বন্ধ থাকার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন অবগত রয়েছে। স্থানীয়রা স্মারকলিপি দেওয়ার পর তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন।
ইউএনও সোমাইয়া আক্তার আরও জানান, মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শক দল ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং টাওয়ার স্থাপনে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।