সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সমালোচনার মুখে পটিয়ায় ফুড ফেস্টিভ্যাল বন্ধের নির্দেশ

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২৬ মার্চ ২০২৬ | ১০:৩৯ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের পটিয়ায় ‘পটিয়া বিজনেস প্ল্যাটফর্ম’ ও ‘নান্দনিক পটিয়া’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ফুড ফেস্টিভ্যাল বা খাদ্যমেলা শেষ মুহূর্তে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিতর্কিত কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে অতিথি করার সমালোচনা শুরু হলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী ২৭ ও ২৮ মার্চ পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

জানা যায়, নতুন উদ্যোক্তাদের নিয়ে এই ফুড ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে চন্দনাইশ উপজেলার এক বিতর্কিত কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে অতিথি হিসেবে রাখায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এরপর তাঁকে বাদ দিয়ে নতুন করে প্রস্তুতি নেয় আয়োজক কমিটি। লিখিতভাবে পাঁচ হাজার টাকা ভাড়ার বিনিময়ে পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেলার অনুমতিও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ মেলা না করার বিষয়টি আয়োজকদের মৌখিকভাবে জানিয়ে দেয়।

মেলা আয়োজক পটিয়া বিজনেস প্ল্যাটফর্মের সদস্য মো. রুবেল জানান, তাঁরা লিখিতভাবে মেলা আয়োজনের জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েছিলেন। একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে নিয়ে বিতর্ক ওঠায় তাঁকে বাদ দিয়ে নতুন করে সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছিল। তাঁরা লিখিতভাবে পটিয়া থানা পুলিশকেও বিষয়টি অবহিত করেছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ করে স্কুল কর্তৃপক্ষ মেলা আয়োজন করতে বারণ করে।

মো. রুবেল আরও জানান, মেলায় তাঁরা ২৬টি স্টল দিয়েছিলেন এবং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যেই স্টল বসানোর ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছিল। শেষ মুহূর্তে মেলা বন্ধ করা হলে তাঁরা আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমালোচনার বিষয়ে মো. রুবেল বলেন, তাঁরা পটিয়ার জন্য কিছু করার লক্ষ্যেই এই প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছেন। এখানে বেপর্দা কিংবা উচ্ছৃঙ্খল কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হয় না বলে তিনি দাবি করেন।

এ ব্যাপারে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, তাঁরা আগে বিষয়টি জানতেন না। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আয়োজকরা তাঁদের লিখিতভাবে জানিয়েছেন। মেলা নিয়ে পুলিশের কোনো করণীয় থাকলে তাঁরা যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। তবে এ বিষয়ে থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে ওসি জিয়াউল হক নিশ্চিত করেন।

মেলার অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান প্রথমে পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুনীল বড়ুয়ার সঙ্গে কথা বলতে বলেন। এরপর একাধিকবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুনীল বড়ুয়ার মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

পরবর্তীতে ইউএনও ফারহানুর রহমান জানান, এ ধরনের মেলার অনুমতি জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে নিতে হয়। কিন্তু আয়োজকরা জেলা প্রশাসকের কোনো অনুমতি নেননি। তাহলে প্রথমে কীভাবে স্কুল থেকে অনুমতি পাওয়া গেল, এমন প্রশ্নের উত্তরে ফারহানুর রহমান জানান, বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনীল বড়ুয়াই ভালো বলতে পারবেন। তবে শেষ পর্যন্ত সুনীল বড়ুয়া ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।