সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতকানিয়ায় কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের অভিযান, কৃত্রিম বাঁধ উচ্ছেদ

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২৭ মার্চ ২০২৬ | ১০:০৫ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে কৃষিজমি ধ্বংস করে চলা মাটিখেকো সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবশেষে জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পশ্চিম পাশে তেমুহনী, নলুয়া ও কেঁওচিয়া ইউনিয়নের মধ্যবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় অবৈধভাবে তৈরি করা কৃত্রিম বাঁধ উচ্ছেদ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

শুক্রবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সাতকানিয়া থানা-পুলিশ অংশ নেয়। অভিযানে অবৈধ বাঁধ কেটে ফেলা হয়, ফলে দীর্ঘদিনের কৃত্রিম পানি নিয়ন্ত্রণ ভেঙে স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসে এবং মাটি কাটার প্রধান পথ বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তেমুহনী, নলুয়া ও কালিয়াইশের বিল এলাকায় গত ১০ থেকে ১৫ বছরে শত শত হেক্টর কৃষিজমি কেটে গভীর গর্ত ও কৃত্রিম জলাশয় তৈরি করা হয়েছে। এসব জলাশয়ের পানি শুকিয়ে প্রতি বছর ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকার চুক্তিতে রাতের আঁধারে মাটি কেটে ইটভাটায় পাচার করা হতো। শুধু তাই নয়, অবৈধ উপায়ে সেচ প্রকল্প ব্যবহার করে সেচের মালিকদের ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হতো। এই বিদ্যুৎ ব্যবহার করে শক্তিশালী পাম্পের মাধ্যমে জলাশয়ের পানি দ্রুত শুকিয়ে ফেলে মাটি কাটার কাজ নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেত চক্রটি। এতে একদিকে রাষ্ট্রের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অপব্যবহার, অন্যদিকে পরিবেশ ধ্বংস—দুই অপরাধই একসঙ্গে সংঘটিত হচ্ছিল।

জানা যায়, এ কাজে একাধিক সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে। তারা প্রশাসনের নজর এড়িয়ে রাতের অন্ধকারে ডাম্পার ট্রাক দিয়ে মাটি সরিয়ে নিয়ে যেত, যার শব্দে রাতভর কেঁপে উঠত পুরো এলাকা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান, জরিমানা, এমনকি ডাম্পার জব্দ ও ধ্বংস করা হলেও পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছিল না এই অবৈধ কার্যক্রম। এতে একদিকে কৃষিজমি উৎপাদনক্ষমতা হারাচ্ছিল, অন্যদিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন রাত হলেই ডাম্পারের শব্দে তাঁদের ঘুম ভাঙত। কয়েক দিন অভিযান হলে কাজ বন্ধ থাকে, তারপর আবার শুরু হয়। এভাবে চলতে থাকলে তাঁদের জমি ও পরিবেশ দুটোই ধ্বংস হয়ে যাবে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। স্থানীয়রা প্রশাসনের এই সাম্প্রতিক উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও স্থায়ী নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, মাটিখেকোদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই অভিযান চলমান থাকবে। জনস্বার্থবিরোধী কোনো কার্যক্রম বিন্দুমাত্র বরদাস্ত করা হবে না বলে খোন্দকার মাহমুদুল হাসান কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।