সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

ফটিকছড়ি ‘উত্তর উপজেলা’ সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে করার দাবি

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২৮ মার্চ ২০২৬ | ৬:১৭ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলাকে বিভক্ত করে প্রস্তাবিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে শনিবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুজপুর থানাধীন নারায়ণহাট ইউনিয়নের বাসিন্দারা। সংবাদ সম্মেলন থেকে তাঁরা ভৌগোলিক দূরত্ব ও প্রশাসনিক জটিলতা বিবেচনা না করে সদর দপ্তর স্থাপনের বিরোধিতাকারী হারুয়ালছড়ি ও ভুজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের কড়া সমালোচনা করেন।

জানা গেছে, সম্প্রতি সরকার ফটিকছড়ি উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন একটি উপজেলা গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু প্রস্তাবিত এই উপজেলার সদর দপ্তর ভুজপুর মৌজায় করার একটি আবেদনের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন নারায়ণহাট ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, ভৌগোলিক দূরত্ব এবং প্রশাসনিক জটিলতা বিবেচনা না করে জনমতকে উপেক্ষা করে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নিলে এর দায় ওই দুই জনপ্রতিনিধিকে নিতে হবে।

উপজেলার নারায়ণহাট জমজম ক্যাফে নামক একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাজনীতিক ও সমাজসেবক মো. শফিউল আলম। এ সময় স্থানীয় রাজনীতিক, সমাজসেবক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মো. শফিউল আলম তাঁর লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, উপজেলাকে বিভক্ত করে প্রস্তাবিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা গঠন এবং সদর দপ্তরের স্থান নিয়ে গণশুনানিতে জনসাধারণের উত্থাপিত মতামতের আলোকে মাঠ প্রশাসনের ২০২৩ সালের ১১ মের প্রতিবেদনটি যথাযথ ছিল। কিন্তু দুই চেয়ারম্যানের অযৌক্তিক দাবির কারণে উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষ সুফল থেকে বঞ্চিত হবেন।

মো. শফিউল আলম দাবি করেন, স্বাধীনতার পর থেকে উত্তরের তিন ইউনিয়নবাসীর বৃহত্তর দাবি এটি। অন্তত দুই লক্ষাধিক মানুষের সেবা সহজীকরণ এবং এই অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে নতুন প্রশাসনিক বিন্যাস হিসেবে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের বিষয়টি গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর প্রি-নিকার সভায় অনুমোদিত হয়। এরপর থেকে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে প্রশাসন পাঠানো গণশুনানির প্রতিবেদন, সর্বসম্মত রেজল্যুশন এবং সংসদ সদস্যের চাহিদাপত্র গোপন করে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণকে অন্ধকারে রেখেছে। তাঁরা সম্পূর্ণ নতুনভাবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে ভুল ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে ন্যায্যতা যাচাই না করে পশ্চিম ভুজপুর মৌজায় সদর দপ্তর স্থাপনের কৌশলী অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন।

মো. শফিউল আলম আরও বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের মদদপুষ্ট সাবেক সংসদ সদস্য নজিবুল বশরের দোসর ভুজপুর ও হারুয়ালছড়ি ইউপি চেয়ারম্যানের সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেট এমন অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। এই খবর পেয়ে উত্তর ফটিকছড়ির বাগানবাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের জনসাধারণের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের আগে প্রশাসন পাঠানো প্রতিবেদন গোপন করে সম্প্রতি সরকারের উচ্চপর্যায়ে একটি অযৌক্তিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে বর্তমান উপজেলা সদরের দূরত্ব মাত্র ৭ কিলোমিটার হলেও তা ১৪ কিলোমিটার দেখানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও মনগড়া বলে মো. শফিউল আলম অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে স্থানীয় আইনজীবী রবিউল হাসান তানজিম বলেন, যে মৌজায় উত্তর উপজেলার দপ্তর স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে, সেটি থেকে বর্তমান সদরের দূরত্ব মাত্র ৭ কিলোমিটার, যা অযাচিত ও অযৌক্তিক। অন্যদিকে, উত্তর ফটিকছড়ির বাগানবাজারের দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার। ফলে এমনটি হলে এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের আশা ও স্বপ্নভঙ্গ হবে বলে রবিউল হাসান তানজিম সতর্ক করেন।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে নেতৃবৃন্দ জানান, এই প্রস্তাবে উত্তরাঞ্চলের জনগণের জন্য সরকারি সেবা সহজলভ্য হওয়ার বদলে তা বঞ্চনার নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করবে। অপ্রত্যাশিতভাবে এমন কোনো স্থানে উপজেলা সদর দপ্তর হলে তা স্পষ্টতই সরকারের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা মো. ইমরান খাঁন, মো. এনামুল হক, নাছির উদ্দীন চৌধুরী, আবু জাফর, নুর আবছার, মুন্সি মোহাম্মদ ইউনুস এবং সাহেদুল আলম চৌধুরী প্রমুখ।