
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা জুড়ে তীব্র জ্বালানি তেল সংকট দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে উপজেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ স্টেশনেই তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পরিবহন চালক ও সাধারণ গ্রাহকেরা।
উপজেলার বড়দারোগারহাট রংধনু পেট্রোল পাম্প, নিজামপুর রেদোয়ান ফিলিং স্টেশন, বড়তাকিয়া ফিলিং স্টেশন, সুফিয়া রোড গুলিস্তান ফিলিং স্টেশন, মিঠাছড়া গাঙচিল ফিলিং স্টেশন, ঠাকুরদীঘি চলমান সিএনজি পাম্প, চৈতন্যেরহাট সোনাপাহাড় ফিলিং স্টেশন, মস্তাননগর মডেল পাম্প, ফেবো ফিলিং স্টেশন, বারৈয়ারহাট মাঈন উদ্দিন ফিলিং স্টেশন ও বারৈয়ারহাট রূপনগর ফিলিং স্টেশনসহ প্রায় সবগুলো পাম্পেই তেল সরবরাহ বন্ধ বা সীমিত আকারে দেওয়া হচ্ছে।
পেট্রোল পাম্পগুলোর সামনে এবং মহাসড়কে তেল না পেয়ে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে যানবাহনগুলোকে। বিশেষ করে পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান সড়কেই আটকে পড়েছে, যার ফলে যানজট ও পরিবহন সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
কিছু কিছু পাম্পে সীমিত আকারে তেল সরবরাহ করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গ্রাহকেরা খালি হাতে ফিরছেন। অনেক গ্রাহকের অভিযোগ, পাম্পে তেল থাকা সত্ত্বেও তা সরবরাহ করা হচ্ছে না।
মিঠাছড়া বাজারে গাংচিল ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, অকটেনের জন্য মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। তবে প্রতিটি মোটরসাইকেলে মাত্র ১০০ টাকার অকটেন দেওয়া হচ্ছে, যা দিয়ে অনেকেই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। এদিকে চলমান সিএনজি পাম্প ও রূপনগর ফিলিং স্টেশনে অকটেন মজুত থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ বন্ধ রাখার অভিযোগ করেছেন গ্রাহকেরা।
মেহেদী হাসান নামের এক গ্রাহক বলেন, চলমান সিএনজি পাম্পে অল্প কিছুক্ষণ অকটেন দিয়ে তেল থাকা সত্ত্বেও তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে অন্তত ২০০-এর অধিক মোটরসাইকেল এই পাম্পে আটকা পড়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
আবদুল আউয়াল নামের এক মোটরসাইকেল চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ১০০ টাকার তেল দিয়ে কী হবে? পাম্পে তেল আছে, তবুও দিচ্ছে না, এটা আমাদের সাথে অন্যায়।
তবে পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে, সরবরাহ সংকটের কারণেই তারা তেল দিতে পারছে না। নতুন করে তেল না আসা পর্যন্ত স্বাভাবিক সরবরাহ চালু করা সম্ভব নয়।
চলমান ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী নাছির উদ্দিন জানান, তারা ডিপোতে তেলের জন্য গাড়ি পাঠালেও তা খালি ফিরে আসছে। তেল যদি না থাকে তাহলে বিক্রি করবেন কীভাবে, এমন প্রশ্নও রাখেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।