
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় এবার কৃষিজমিতে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সুস্বাদু তরমুজের ফলন হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। ইতিমধ্যে বাগান থেকে তরমুজ বিক্রি শুরু হওয়ায় এখানকার কৃষকেরা এখন বেশ আনন্দের সময় পার করছেন। মূলত উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগিতাতেই এখানকার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সুস্বাদু এই তরমুজের চাষ করেছেন চাষিরা।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রাউজান উপজেলাজুড়ে ১৮ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া এখনো অনুকূলে থাকায় চাষিরা ফসল বিক্রি করে ভালো লাভ ঘরে তোলার আশায় রয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার নোয়াপাড়া, ডাবুয়া, নোয়াজিষপুর, সুলতানপুর, হিংগলা ইউনিয়ন ও পৌরসভাসহ বেশ কিছু এলাকায় তরমুজের চাষ করেছেন কৃষকেরা। এর মধ্যে জেব্রা কিংস, গ্লোরি, রেড বোল, চ্যাম্পিয়ন ও ব্ল্যাক ডায়মন্ড জাতের তরমুজ চাষ করেছেন তাঁরা। মাঠজুড়ে শোভা পাচ্ছে পরিপক্ব ও সুস্বাদু তরমুজ। গাছ থেকে পাকা তরমুজ ছিঁড়ে বস্তায় করে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যেতে এবং ফসল পরিবহন করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও শ্রমিকেরা।
তরমুজচাষি মো. হাসান জানান, তিনি এই বছর ১২০ কানি জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন এবং এতে তাঁর প্রায় ৪৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
মো. হাসান আরও জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং রোদ থাকলে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে তিনি ভালো লাভের আশা করছেন। স্থানীয় মানুষের চাহিদা মিটিয়ে তাঁর উৎপাদিত এসব সুস্বাদু তরমুজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পেছনে রাউজান উপজেলা কৃষি বিভাগের নিরলস প্রচেষ্টা রয়েছে উল্লেখ করে মো. হাসান জানান, তাঁদের যথাযথ পরামর্শেই এমন উচ্চ ফলনশীল তরমুজ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।
এ বিষয়ে রাউজান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুম কবির জানান, রাউজানে ১৮ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের তরমুজের চাষ হয়েছে এবং শুরু থেকেই কৃষি বিভাগ চাষিদের পাশে ছিল। আগামী দিনগুলোতে এই উপজেলায় তরমুজের আবাদ ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণের জন্য আরও বড় পরিসরে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন মাসুম কবির।
আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা কাঙ্ক্ষিত লাভ নিয়ে বাড়ি ফিরবেন বলেও মাসুম কবির আশাবাদ ব্যক্ত করেন।