সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

এলজিইডি কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ, চবি ছাত্রদল নেতা হৃদয়কে শোকজ

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৩১ মার্চ ২০২৬ | ৭:৩৪ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয়ে ভাঙচুর ও এক উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার জেরে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ।

মঙ্গলবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দায়িত্বশীল পদে আসীন থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়ের বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে তাকে এই ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, সোমবার বিকালে ফটিকছড়ি এলজিইডি কার্যালয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী আতা উল্লাহর কক্ষে ভাঙচুর ও লাঞ্ছনার ওই ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় ওই কার্যালয়ে গিয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী আতা উল্লাহর কাছে উপজেলা হিসাবরক্ষক শয়ন বড়ুয়ার মোবাইল নম্বর চান। নম্বর দিতে বিলম্ব হওয়ায় সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে তিনি আতা উল্লাহকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান। এতে অফিসের কম্পিউটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে উপস্থিত লোকজন ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এগিয়ে এলে তিনি সেখান থেকে চলে যান।

ফটিকছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবছার চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তারা বিষয়টি এরই মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করেছেন।

সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির প্যানেল থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৪ হাজার ৩৭৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় গণমাধ্যমকে জানান, তিনি তার এলাকার এক কর্মকর্তার ফোন নম্বর চাইলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী আতা উল্লাহ তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছে দাবি করে সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, প্রিন্টার বা কার্যালয় ভাঙচুরের যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।