
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের উত্তর হারবাং এলাকার ছড়াখালে সেলো মেশিন বসিয়ে ফের অবৈধভাবে বালু উত্তোলন শুরু করেছে একটি চক্র। তিন সাংবাদিকের ওপর হামলার পরও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় চরম পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি কৃষিজমি ও বসতবাড়ি মারাত্মক ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের একাধিক অভিযানের পরও মোর্শেদ আলম মানিক, মো. এমরান ও মাওলানা শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এই পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রম চালাচ্ছে। ছড়াখালের দুই তীর কেটে এবং ফসলি জমি ধ্বংস করে বালু উত্তোলনের কারণে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি পুকুরে পরিণত হচ্ছে। এতে ওই এলাকার কৃষকরা জীবিকা হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উত্তর হারবাংয়ের ইছাছড়ি, ভাণ্ডারির ডেবা, কোরবানিয়া ঘোনা ও আশপাশের এলাকায় শক্তিশালী সেলো মেশিন ও ড্রেজার ব্যবহার করে দিবারাত্রি অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। প্রতিযোগিতামূলক এই উত্তোলনের জেরে ৫০-৬০ ফুট প্রশস্ত প্রাকৃতিক ছড়াখাল বর্তমানে কোথাও কোথাও ২০০ ফুট পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে পড়েছে। ট্রাকযোগে এসব বালু পাচারের ফলে গ্রামীণ সড়কগুলো দ্রুত নষ্ট হচ্ছে এবং ধুলাবালিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠছে। চক্রের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে তাকে মারধর ও এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিকালে উত্তর হারবাং ইছাছড়ি এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন তিন পেশাদার সাংবাদিক। ভুক্তভোগীদের দাবি, নাজেম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে সাংবাদিক এম. জিয়াবুল হক, ছোটন কান্তি নাথ ও একেএম ইকবাল ফারুককে মারধর করা হয় এবং পানিতে ডুবিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।
পরিবেশ আইন অনুযায়ী ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও ইজারা শর্ত ভেঙে কৃষি জমি কেটে এই কাজ অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় হারবাং ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্র জানায়, নির্ধারিত সীমার বাইরে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপায়ন দেব জানান, উত্তর হারবাংয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং ওই এলাকায় অভিযানও চালানো হয়েছে। পুনরায় কেউ যদি ছড়াখাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে, তবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, চকরিয়া উপজেলা পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মাহমুদ বলেন, ছড়াখালের তলদেশ থেকে এভাবে বালু উত্তোলনের কারণে গভীরতা ও প্রশস্ততা বেড়ে গেলে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ বন্যা ও ব্যাপক ভাঙনের ঝুঁকি বাড়বে। বিচ্ছিন্ন অভিযানের চেয়ে জড়িত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি। তা না হলে হারবাংয়ের ছড়াখালগুলো পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।