
কক্সবাজারের চকরিয়ায় চিংড়ি ঘেরের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে মনজুর আলম কালু (৫২) নামের এক ব্যক্তিকে শ্বাসরোধ ও পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মালুমঘাটের পশ্চিমে বড় ডুমখালী ঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত মনজুর আলম ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বড় ডুমখালী ঘোনা এলাকার মৃত জাফর আলমের ছেলে। ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন শিপু চিংড়িচাষি মনজুরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, চিংড়ি ঘেরের মালিকানা নিয়ে স্থানীয় রমজান আলীর সঙ্গে মনজুর আলমের কয়েক দিন ধরে বিরোধ চলছিল। নিহতের ভাই জামাল হোসেন জানান, ঘের দখলে নিতে গত বুধবার (১ এপ্রিল) প্রতিপক্ষের লোকজন হাতুড়ি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মনজুর আলমের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় চকরিয়া থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল। এরই জেরে বৃহস্পতিবার রাতে চিংড়ি ঘেরে মনজুরকে একা পেয়ে রমজান আলীর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যা করে বলে দাবি করেন তিনি।
নিহতের চাচা ইমাম হোসেন বলেন, “রাতে ঘেরে যাওয়ার সময় মনজুর আমাকে জানিয়েছিল যে রমজান আলীর লোকজন ঘেরে আসতে পারে। রাত তিনটার দিকে ঘেরের দিক থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে আমরা সেখানে যাই এবং মনজুরকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখি।” পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে মৃত অবস্থায় সেখান থেকে উদ্ধার করেন।
স্বজনদের অভিযোগ, সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের উপস্থিতি টের পেয়ে কর্মচারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও মনজুর আটকা পড়েন। এরপর দুর্বৃত্তরা তাঁকে বেধড়ক পিটিয়ে, শ্বাসরোধ করে ও পানিতে চুবিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, খবর পেয়ে ভোররাতেই পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। তবে প্রাথমিকভাবে মরদেহের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তাই ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
ওসি আরও জানান, শুক্রবার দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।