
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ডাকাতি, ধর্ষণসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি মোহাম্মদ ইউনুস প্রকাশ পুতুর (৩৫) বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দেশীয় তৈরি একটি একনলা বন্দুক ও ১৪ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৪ এপ্রিল) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাড়া এলাকায় মোহাম্মদ ইউনুসের বাড়িতে এই অভিযান চালানো হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আগেই গা ঢাকা দেন মোহাম্মদ ইউনুস।
অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন।
ওসি মো. মনির হোসেন জানান, শনিবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাপস দাশ সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স নিয়ে চিরিঙ্গা ইউনিয়নের চরপাড়ায় পলাতক আসামি মোহাম্মদ ইউনুসের বসতঘরে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মোহাম্মদ ইউনুস কৌশলে পালিয়ে গেলেও তাঁর শয়নকক্ষের বিছানার নিচ থেকে দেশে তৈরি একটি একনলা বন্দুক ও ১৪টি কার্তুজ উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
উদ্ধার করা অস্ত্র ও গুলি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন চকরিয়া থানার ওসি মো. মনির হোসেন। তিনি আরও জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অস্ত্রবাজ সন্ত্রাসীদের শেকড় উপড়ে ফেলা হবে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, চিরিঙ্গা ইউনিয়নের মো. সেলিম প্রকাশ রাইফেল সেলিমের ছত্রচ্ছায়ায় চিংড়িঘেরভিত্তিক নানা ধরনের অপরাধে জড়িত রয়েছেন মোহাম্মদ ইউনুস প্রকাশ পুতু। চকরিয়া থানা-পুলিশ জানিয়েছে, মোহাম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে মৎস্য ঘের দখল, ডাকাতি, অস্ত্র ও ধর্ষণসহ অন্তত দশটি মামলা রয়েছে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, মো. সেলিম প্রকাশ রাইফেল সেলিমের ছত্রচ্ছায়ায় থাকায় মোহাম্মদ ইউনুসের অত্যাচারে এলাকার সাধারণ মানুষ দিশেহারা।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ মার্চ চিরিঙ্গা ইউনিয়নে মো. সেলিম প্রকাশ রাইফেল সেলিমের নির্দেশে মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে এক মৎস্য ঘের কর্মচারীর বাড়িতে গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে সাত বছরের শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ তিনজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই সংবাদ প্রকাশের জেরে স্থানীয় এক সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেন মোহাম্মদ ইউনুস ও তাঁর সহযোগীরা।