সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

পেকুয়ায় কলেজশিক্ষক ফরহাদ হত্যা: ১১ বছরেও অধরা ফাঁসির আসামি ছোটন

মৃত্যুর আগে ছেলের খুনির ফাঁসি দেখে যেতে চান পেকুয়ার মাস্টার মোহাম্মদ ইউনুছ
এম. জিয়াবুল হক | প্রকাশিতঃ ৫ এপ্রিল ২০২৬ | ৯:২৮ অপরাহ্ন


কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার কলেজশিক্ষক এস এম ফরহাদ উদ্দিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল আসামি ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছালেহ জঙ্গী প্রকাশ ছোটন দীর্ঘ ১১ বছর ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। এ ঘটনায় মামলার বাদী ও নিহতের পরিবারে চরম হতাশা ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। নিহত শিক্ষকের বাবা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং মৃত্যুর আগে তিনি ছেলের খুনির ফাঁসি কার্যকর দেখে যেতে চান।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের উত্তর মেহেরনামা আবদুল হামিদ সিকদার পাড়ার বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোহাম্মদ ইউনুছের ছেলে কলেজশিক্ষক এস এম ফরহাদ উদ্দিন ২০১৫ সালের ৬ মে রাত ৯টার দিকে প্রতিবেশী ছালেহ জঙ্গী প্রকাশ ছোটনের গুলিতে নিহত হন। বাদীর বাড়ির ওপর দিয়ে বৈদ্যুতিক লাইন নিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে মাস্টার মোহাম্মদ ইউনুছ ও প্রতিবেশী মৃত মৌলভি নুর আহমদ ওসমা গণির ছেলে ছালেহ জঙ্গী ছোটনের মধ্যে প্রথমে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

এর জেরে মাস্টার ইউনুছের বড় ছেলে এস এম ফরহাদ উদ্দিনের সঙ্গেও ছোটনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ছালেহ জঙ্গী ছোটন ধারালো কিরিচ দিয়ে কোপ মারেন এবং পরে বাড়ি থেকে বন্দুক এনে ফরহাদকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। গুলিটি তাঁর পিঠে বিদ্ধ হয়ে বুক ভেদ করে বেরিয়ে যায়। এ সময় কিরিচের কোপে ফরহাদের ছোট বোন নাফিছা নুর দিনাও গুরুতর আহত হন।

এ ঘটনায় নিহত কলেজশিক্ষকের বাবা মাস্টার মোহাম্মদ ইউনুছ বাদী হয়ে ছালেহ জঙ্গী ছোটনকে প্রধান আসামি করে পেকুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৮, জিআর ৮৭/২০১৫ ইংরেজি)। দীর্ঘ শুনানি শেষে কক্সবাজারের অতিরিক্ত দায়রা জজ আবদুল্লাহ আল মামুন মামলার প্রধান আসামি ছালেহ জঙ্গী ছোটনকে ৩০২/৩৪ ধারায় মৃত্যুদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৩ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে ছোটনের স্ত্রী আসমাউল হুসনা প্রকাশ লিপিকে ৩০২/৩৪ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি মামলার অপর আসামিদের বেকসুর খালাস প্রদান করেন আদালত।

মামলার বাদী অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাস্টার মোহাম্মদ ইউনুছ হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, তাঁর ছেলেকে হত্যা করার পর দীর্ঘ ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো মূল আসামি ছালেহ জঙ্গী ছোটন গ্রেপ্তার হননি। তিনি বিচারকের রায়ে সন্তুষ্ট হলেও প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় চরম চিন্তিত ও হতাশ। ছেলের শোকে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

মাস্টার মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, তিনি তাঁর ছেলের হত্যাকারী ও মূল আসামি ছালেহ জঙ্গী ছোটনের ফাঁসি চান। মৃত্যুর আগে দুনিয়াতেই তিনি ছেলের হত্যার বিচার দেখে যেতে চান। অবিলম্বে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম জানান, কলেজশিক্ষক হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।