
চৈত্র মাসের শেষ মুহূর্তে আবহাওয়ার বৈরী আচরণ ও কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোররাত ৩টার দিকে শুরু হওয়া আকস্মিক ঝড়ে ভেঙে গেছে বসতবাড়ি ও গাছপালা, উপড়ে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। একই সঙ্গে দমকা হাওয়ার সঙ্গে নেমে আসা বৃষ্টিতে বিস্তীর্ণ ফসলের খেতে ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। অনেক এলাকায় ফসলের খেত ডুবে গেছে হাঁটু পানির নিচে।
৪০ মিনিটের বেশি সময় স্থায়ী হওয়া দমকা হাওয়ার তাণ্ডবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং টানা ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জনজীবন চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
চকরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) দিলীপ দে জানান, মঙ্গলবার ভোররাতে প্রচণ্ড গতিতে শুরু হওয়া কালবৈশাখীর প্রভাবে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গাছ উপড়ে পড়ে কমবেশি কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া গৃহস্থালির বাড়িভিটার গাছসহ গ্রামীণ সড়কের গাছপালা ভেঙে বিভিন্ন স্থানে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্যমতে, কালবৈশাখীর ঝড়ে কৃষকের রকমারি ফসলের খেতে ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। এ ছাড়া ঝোড়ো হাওয়ার কারণে লবণ উৎপাদনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং রাস্তাঘাটে গাছ পড়ে যান চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোররাত ৩টা থেকে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন বন্ধ রয়েছে। কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ার কারণে ১৫ ঘণ্টা সময় অতিবাহিত হলেও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি উপজেলার বেশির ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন চালু করতে পারেনি। তবে চকরিয়া পৌরসভা এলাকায় মঙ্গলবার বিকেলে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি চকরিয়া উপজেলা কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোহাম্মদ এমরান বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রকৌশলীরা বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে কাজ করছেন। উপড়ে পড়া খুঁটি স্থাপন এবং ছিঁড়ে যাওয়া তার লাগিয়ে কাজ করতে একটু বেগ পেতে হচ্ছে। তবে বিকেলের মধ্যে ৭৫ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন চালু করা হয়েছে। রাতের মধ্যে অবশিষ্ট সংযোগ লাইন চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চকরিয়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার রুপায়ন দেব বলেন, কালবৈশাখীর তাণ্ডবে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। মঙ্গলবার সারা দিন উপজেলা প্রশাসন এবং পিআইও বিভাগের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
তিনি জানান, কালবৈশাখী ঝড়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে কী পরিমাণ ক্ষতিসাধন হয়েছে, তা নির্ণয় করে পিআইও কার্যালয়ে তালিকা জমা দিতে উপজেলা প্রশাসন থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তাগাদা দেওয়া হয়েছে। তালিকা হাতে আসার পর কালবৈশাখীর তাণ্ডবে চকরিয়া উপজেলার বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হবে।