সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের পথ পাকাপোক্ত, সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল পাস

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৮ এপ্রিল ২০২৬ | ৩:১৬ অপরাহ্ন


সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা সত্তার কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাস হয়েছে। পাস হওয়া এই বিলে অধ্যাদেশের বিষয়বস্তুতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

অধ্যাদেশের মাধ্যমে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতাদের বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এর আগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোনো সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধের সুস্পষ্ট বিধান ছিল না। তখন বলা ছিল, কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলে সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে ওই ব্যক্তিকে তফসিলে তালিকাভুক্ত করতে পারে বা সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে। তবে অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংশোধনী এনে সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিধান যুক্ত করা হয়। সেটিকে চূড়ান্ত আইনি রূপ দিতেই আজ জাতীয় সংসদে বিলটি পাস হলো।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে পাসের জন্য উত্থাপন করেন। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান আপত্তি জানিয়ে বলেন, এ–সংক্রান্ত একটি তুলনামূলক শিট তাঁরা তিন থেকে চার মিনিট আগে হাতে পেয়েছেন, যা পুরো পড়া সম্ভব হয়নি। এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি আইন হওয়ায় তা পাসের জন্য তাঁদের আরেকটু সময় দেওয়া হোক।

জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আপত্তি জানানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। সেই সময়ে আপত্তি হলে তিনি তা গ্রাহ্য করতে পারতেন। বিলের এই পর্যায়ে এসে আর আপত্তির কোনো সুযোগ নেই। তখন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, দুঃখজনকভাবে শিটটা তাঁরা পেয়েছেন এইমাত্র। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আবারও স্পষ্ট করেন, বিষয়টি হয়তো পরে দেখবেন, তবে বিলের এই পর্যায়ে আপত্তির কোনো সুযোগ নেই।

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে পাস করার প্রস্তাব করেন। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিলটি একটি গণহত্যাকারী সন্ত্রাসী সংগঠনের নিষিদ্ধকরণ–সংক্রান্ত সংশোধনী। আগের যে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ছিল, তা সংশোধনের জন্যই এটি আনা হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের নিশ্চয়ই স্মরণ থাকার কথা, তাঁরা এবং এনসিপির বন্ধুরা সবাই মিলে একটি আন্দোলন করেছিলেন। সেই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে মোটামুটি বাংলাদেশে একটা জনমত সৃষ্টি হয়েছিল এবং সেই জনমতের পরিপ্রেক্ষিতেই তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে দলটির নিবন্ধনও স্থগিত হয়ে আছে। এই আইনের অনুবলে পরবর্তী সময়ে ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে আইসিটি অ্যাক্টেও পরিবর্তন এনে সংগঠনের বিচারের বিধান যুক্ত করে সেই আইনটাও সংশোধন করা হয়েছে। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের আহ্বানে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলে সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তফসিলে তালিকাভুক্ত করতে পারবে বা সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে। ওই সত্তা কর্তৃক বা তার পক্ষে বা সমর্থনে যেকোনো প্রেস বিবৃতির প্রকাশনা বা মুদ্রণ কিংবা গণমাধ্যম, অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে যেকোনো ধরনের প্রচারণা, অথবা মিছিল, সভা-সমাবেশ বা সংবাদ সম্মেলন আয়োজন বা জনসমক্ষে বক্তৃতা প্রদান নিষিদ্ধ করতে পারবে সরকার।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে সংসদে অনুমোদনের সুপারিশ করেছিল জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি রহিত করা হয় এবং ১৬টি পরবর্তী সময়ে আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আনার সুপারিশ করা হয়। যে ১৫টি বিল সংশোধিত আকারে অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছিল, তার একটি ছিল এই সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ। তবে আজ এ–সংক্রান্ত যে বিলটি পাস হয়েছে, শেষ পর্যন্ত সেখানে কোনো সংশোধনী আনা হয়নি।