
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার একটি সালিশি বৈঠক শেষে প্রতিপক্ষের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। হামলায় নারী ও পুরুষসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জোরারগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) কাটাছড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মতিনের দোকানের পাশের এলাকায় দুপুর একটার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে প্রথমে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। হামলায় আহত ব্যক্তিরা হলেন এরশাদ উল্লাহ (৬০), নাছিমা বেগম (৫০), আবু জাফর (৫০), হারাধন (৪৫), আরিফ হোসেন (২৫), মোশাররফ হোসেন (২৮) ও শাহিনুর আক্তারসহ (৫৬) মোট আটজন।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ইউনুসের সঙ্গে এরশাদ উল্লাহর জায়গা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বুধবার বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে কাটাছড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম মেম্বার ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক শওকত আকবর সোহাগসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এরশাদ উল্লাহর বাড়িতে জমি সংক্রান্ত সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ওই বৈঠকে প্রতিবেশী ইউনুস জমির উপযুক্ত দলিল উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হলে বৈঠকটি সাময়িকভাবে মুলতবি করা হয়।
বৈঠক মুলতবি হওয়ার পর ক্ষিপ্ত হয়ে ইউনুস (৪৫), তাঁর ভাই ইসমাইল (৪০), নবী (৩৫), স্থানীয় সেলিম (৪৫), সাইফুল (৪০), কাশেম (৫০), কালা মিয়া (৪৫) ও হোসেনসহ (৫০) ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল প্রতিপক্ষের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা ককটেল নিক্ষেপের পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে এই হামলা চালায়।
হামলায় আহত এরশাদ উল্লাহ জানান, প্রতিবেশী ইউনুস, সেলিম ও কাশেমের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার জন্য সকালে সালিশের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু ইউনুসরা জমির কোনো দলিল দেখাতে ব্যর্থ হলে দুপুর একটার দিকে সালিশ শেষ হয়ে যায়। সালিশে উপস্থিত সালিশকারীরা বিরোধপূর্ণ স্থানে ইউনুসদের অবৈধ প্রবেশে বাধা দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন। তাঁরা স্থান ত্যাগ করার পর ইউনুস, সেলিম ও কাশেমের নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং বাড়ির লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা করে। এতে তাঁরা আটজন আহত হন। এরশাদ উল্লাহর দাবি, সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক শওকত আকবর সোহাগ জানান, দুটি পক্ষের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বৈঠকে উভয় পক্ষ পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় দলিলপত্র দেখাতে না পারায় আগামী ২৭ এপ্রিল পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করে বৈঠকটি মুলতবি করা হয়। এরপর তাঁরা যার যার গন্তব্যে চলে যান। কিছু সময় পর উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির খবর শুনে পুনরায় ওই বাড়িতে ছুটে গিয়ে সবাইকে শান্ত করেন। এ সময় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে শওকত আকবর সোহাগ নিশ্চিত করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউনুস হামলার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন। ইউনুস বলেন, কারও ওপর কোনো হামলা করা হয়নি, দুই পক্ষের মধ্যে কেবল সামান্য কথা-কাটাকাটি হয়েছে।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই বলে ওসি কাজী নাজমুল হক জানান।