সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

তেল ফুরিয়ে মাঝপথে থামল বাস, তেলের জন্য পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ৯ এপ্রিল ২০২৬ | ৮:১১ অপরাহ্ন


আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটায় মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট যাওয়ার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম নগরীর মাদারবাড়ি থেকে ছেড়ে যায় ‘চয়েস পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস। কিন্তু বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে বাসটি মিরসরাইয়ের নিজামপুর কলেজ এলাকায় আসার পর তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় মহাসড়কের মাঝেই আটকে যায়। এরপর বাস থেকে সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাঁদের। পরে ওই যাত্রীরা বাধ্য হয়ে অন্য গাড়িতে করে নিজ নিজ গন্তব্যে যান।

চয়েস পরিবহনের ওই বাসের যাত্রী জাফর উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে বাসটি মাদারবাড়ি থেকে বারইয়ারহাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজটের কারণে ৩ ঘণ্টা ২৫ মিনিট পর নিজামপুর কলেজ এলাকায় এসে তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় বাসটি আটকে যায়। অথচ মাদারবাড়ি থেকে নিজামপুর যেতে বড়জোর দেড় ঘণ্টা সময় লাগে বলে যাত্রী জাফর উদ্দিন জানান।

বাসের চালক মুসলিম উদ্দিন জানান, পাম্পগুলোতে ঠিকমতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন পাম্প থেকে সামান্য পরিমাণ তেল নিয়ে তাঁকে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার মাদারবাড়ি থেকে বারইয়ারহাট যাওয়ার পথে নিজামপুর এলাকায় এসে বাসটি আটকে যায়। চালক মুসলিম উদ্দিন আরও বলেন, পর্যাপ্ত তেল না থাকায় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থা তৈরি হয়েছে, এখানে তাঁর কিছু করার ছিল না।

এদিকে বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ছুটির আগের দিন হওয়ায় সড়কে গাড়ি ও যাত্রীর চাপ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। কিন্তু ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রাম সিটি গেট থেকে বারইয়ারহাট পর্যন্ত বিভিন্ন পাম্প থেকে তেল নেওয়ার জন্য সারি সারি গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় মাইলের পর মাইল যানজট দেখা দেয়। এতে সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। বারইয়ারহাট থেকে মিরসরাই সদরে যাওয়া অপর এক যাত্রী ফখরু উদ্দিন বলেন, সড়কের সীতাকুণ্ড অংশের প্রতিটি পাম্পের সামনে দীর্ঘ যানজট। ৪০ মিনিটের পথ যেতে তাঁর প্রায় আড়াই ঘণ্টা সময় লেগেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড উপজেলায় অবস্থিত প্রায় সব ফিলিং স্টেশনের সামনে তেলের জন্য শত শত গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। কোনো কোনো গাড়ি দুই থেকে তিন ঘণ্টাও দাঁড়িয়ে ছিল। এতে ফিলিং স্টেশনের আশপাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে ভয়াবহ যানজট দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাকির রাব্বানি বলেন, পাম্পে গাড়ির ভিড়ের কারণে মহাসড়কের কিছু অংশে যানজট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার হওয়ার কারণে সড়কে গাড়ির চাপও কিছুটা বেড়েছে। কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাকির রাব্বানি আরও জানান, তাঁরা সড়কে যানজট নিরসনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।