সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রতিবাদ করলেন জামায়াতের এমপি প্রার্থী সাইফুর রহমান?

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ৯ এপ্রিল ২০২৬ | ৮:২০ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এমপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমানের এক বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে একটি বিল পাসের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান বলেন, জামায়াত নিষিদ্ধের তিন দিনের মাথায় আওয়ামী লীগের পতন। এবার কী হবে? রাজনীতি হবে মানুষের কল্যাণে, দেশের কল্যাণে। নিষিদ্ধ করে কি কারও রাজনৈতিক অধিকার হরণ করা যায়?

অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমানের এই বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ (পুসাব)-এর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলা হয়, অতীতে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে তাদের রাজনৈতিক অধিকার হরণ কতটা অযৌক্তিক—সে বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান প্রয়োজন। পুসাব আরও উল্লেখ করে, অপরাধের বিচার এক বিষয়, আর অধিকার অন্য বিষয়।

অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমানের মন্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে পুসাব প্রশ্ন তোলে, যে দল দীর্ঘদিন প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে দমন করতে চেয়েছে, তাদের অধিকার নিয়ে এত উদ্বেগ কেন? একই সঙ্গে পুসাব জানতে চায়, এটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আনুষ্ঠানিক অবস্থান কি না এবং অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে দলের পক্ষ থেকে কোনো সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না। পুসাব সতর্ক করে বলে, যদি অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে এটিকে দলের অবস্থান হিসেবেই গণ্য করা হবে।

এদিকে, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। এক পোস্টে মিরসরাই উপজেলা বিএনপি লিখেছে, তবে কি আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ চায় না জামায়াত? অন্তর্বর্তী সরকার যখন নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল, তখন কিন্তু তিনি কোনো প্রতিবাদ জানাননি। বরং সে সময় জামায়াত ও এনসিপি সরকারকে এ সিদ্ধান্ত নিতে চাপ সৃষ্টি করেছিল।

অন্যদিকে, একটি ইউনিয়ন যুব বিভাগের সভাপতি তাঁর ব্যক্তিগত পোস্টে লিখেছেন, যেখানে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে জামায়াত সরাসরি আন্দোলন করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নির্বাহী আদেশ দিতে বাধ্য করেছিল, সেখানে দলের একজন এমপি প্রার্থী হয়ে এমন বক্তব্য দেওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক এবং এটি দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান বলেন, তাঁর বক্তব্যটি ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। অপরাধী হিসেবে নিয়ে নিষিদ্ধ করা আর রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ করা এক জিনিস নয়। আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য কার্যক্রম নিষিদ্ধ করল অন্তর্বর্তী সরকার, কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ায় সেটি না করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগে কোনো আলোচনা ছাড়াই সংসদে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করে এবং পূর্বের আইনটিও সংশোধন করে নেয়। এতে সরকার আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ করল, কিন্তু তাদের অপরাধগুলো রয়ে গেল। অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান আরও বলেন, তাঁর পূর্বের স্ট্যাটাসটি ছিল সম্পূর্ণ আইনগত (লিগ্যাল), কাউকে সমর্থন করে নয়। এখানে তিনি একবারও বলেননি যে কেন আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হলো।