
নারায়ণগঞ্জের এশিয়ান হাইওয়ে সড়কে বোরহানউদ্দীন নামের চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের এক প্রবাসীর গাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দল ভুক্তভোগী বোরহানউদ্দীনের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, নগদ অর্থ, পাসপোর্টসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। তবে ডাকাতির ঘটনাস্থলের সীমানা নিশ্চিতে ভুক্তভোগী বোরহানউদ্দীনকে দুই থানায় ছোটাছুটি করতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী বোরহানউদ্দীন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের পূর্ব পোলমোগরা এলাকার নাসিরউদ্দীনের ছেলে।
জানা গেছে, প্রবাসী বোরহানউদ্দীন গতকাল শুক্রবার ভোরে একটি মাইক্রোবাসে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন। যাওয়ার পথে এশিয়ান হাইওয়ে পার হওয়ার সময় অজ্ঞাত ৫-৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বোরহানউদ্দীনের গাড়ি থামিয়ে দেয়। এরপর ডাকাত সদস্যরা ভুক্তভোগী বোরহানউদ্দীনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর সঙ্গে থাকা নগদ অর্থ, আইফোন, ল্যাপটপ, ৯০ গ্রাম স্বর্ণ এবং দুটি পাসপোর্ট ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এদিকে ডাকাতি এশিয়ান হাইওয়ে সড়কে ঘটা সত্ত্বেও সীমানা সমস্যার কারণে ভুক্তভোগী বোরহানউদ্দীনকে আইনি সহায়তা পেতে দুই থানায় ছোটাছুটি করতে হচ্ছে। ঘটনার শিকার হয়ে প্রথমে বোরহানউদ্দীন সোনারগাঁ থানা-পুলিশের দ্বারস্থ হন। সেখানে যাওয়ার পর ওই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিফাতকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বোরহানউদ্দীন জানতে পারেন ডাকাতির স্থান বন্দর থানা অংশে পড়েছে। পরবর্তী সময়ে উপপরিদর্শক রিফাত ও পুলিশ সদস্যরা ভুক্তভোগী বোরহানউদ্দীনকে বন্দর থানায় পাঠিয়েছেন।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহিবুল্লাহ জানান, প্রবাসী বোরহানউদ্দীনের গাড়িতে ডাকাতির ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের একটি টিমকে ভুক্তভোগী বোরহানউদ্দীনের সঙ্গে ঘটনাস্থলে পাঠান ওসি মুহিবুল্লাহ। ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, ঘটনাস্থলটি সোনারগাঁ থানা অংশে নয়, বন্দর থানাধীন এশিয়ান হাইওয়ে রোডের মদনপুর বাজার এলাকায় পড়েছে। তখন তাঁরা ভুক্তভোগী বোরহানউদ্দীনকে বিষয়টি বন্দর থানায় অবহিত করতে বলেন এবং ওসি মুহিবুল্লাহ নিজেও বিষয়টি বন্দর থানার ওসি গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দীনকে জানিয়েছেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো অভিযোগ হয়েছে কি না, তা বন্দর থানার ওসি গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দীন ভালো বলতে পারবেন বলে সোনারগাঁ থানার ওসি মুহিবুল্লাহ উল্লেখ করেন।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দীন জানান, ঘটনাস্থলের ছবি দেখে তাঁর মনে হয়েছে এটি বন্দর থানাধীন অংশে পড়েনি। এটি নিয়ে সন্দেহ থাকায় ভুক্তভোগী বোরহানউদ্দীনের সঙ্গে তাঁদের টিমকে পাঠিয়েছেন বিস্তারিত তদন্তের জন্য। তবে ঘটনাস্থল যেখানেই হোক, পুলিশের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা দিতে কোনো কার্পণ্য করা হবে না। প্রয়োজন হলে তাঁরা দুই থানার টিম একসঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে কাজ করবেন বলে বন্দর থানার ওসি গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দীন আশ্বাস দিয়েছেন।